19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুই অসুস্থ শিশুকে মা-বাবা ফেলে যান, অটোচালক উদ্ধার করে

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুই অসুস্থ শিশুকে মা-বাবা ফেলে যান, অটোচালক উদ্ধার করে

চট্টগ্রাম বিভাগের আনোয়ারা উপজেলায় রোববার সন্ধ্যায় দুই অসুস্থ শিশুকে তাদের মা‑বাবা সড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ ও সামাজিক সেবা সংস্থা হস্তক্ষেপ করেছে। শিশুরা অটো রিকশা চালক মহিম উদ্দিনের হস্তক্ষেপে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং এখন তদন্তের অধীনে রয়েছে।

সন্ধ্যা সময়ে বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় দুই শিশুকে সড়কের ধারে বসে কাঁপতে কাঁপতে দেখা যায়। চালক মহিম উদ্দিন, যিনি সিএনজি পরিচালিত অটো রিকশা চালান, শিশুরা একা ও অসুস্থ অবস্থায় বসে থাকা লক্ষ্য করে নিকটবর্তী গলি দিয়ে তাদের কাছে যান। তিনি বড় শিশুর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি জানার পর দুজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নিরাপদে রাখেন।

উদ্ধারকৃত দুই শিশুর মধ্যে এক কন্যা, যার নাম আয়েশা, বয়স চার বছর এবং একটি ছেলে, মোরশেদ, বয়স দুই বছর। উভয়ই অসুস্থ এবং ছোট শিশুটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। শিশুরা জানায় যে তাদের মা‑বাবা তাদের নিয়ে এসে এক খালার হাতে সড়কের পাশে রেখে চলে গেছেন।

মহিম উদ্দিনের বাড়িতে শিশুরা পৌঁছানোর পর তার স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, দুজনেই জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। রাতের খাবার ও গরম পানির স্নানের পর শিশুরা সাময়িক স্বস্তি পায়। শারমিনের মতে, শিশুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মা‑বাবা তাদের ত্যাগ করেছে বলে তিনি সন্দেহ করেন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার আজ বিকালে জানান, উদ্ধারকৃত শিশুরা স্থানীয় হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলাকালীন তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সুস্থ হলে সামাজিক সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ‘সেইভ হোম’ এ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, শিশুরা ফেলে যাওয়ার সময় তাদের মা‑বাবা সড়কের পাশে এক খালার বাড়িতে গিয়ে শিশুরা ছেড়ে চলে গেছেন। পুলিশ এখনো ফেলে যাওয়ার সঠিক কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারি নি, তবে অবিলম্বে মামলাটি শিশু সুরক্ষা আইনের অধীনে দায়ের করা হবে।

অভিযোগের ভিত্তিতে, শিশুরা ত্যাগ করা এবং অবহেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট মা‑বাবাকে শিশু সুরক্ষা আইনের ধারা ৩ এবং ৪ অনুযায়ী অপরাধমূলক দায়ের করা হতে পারে। এছাড়া, ফেলে যাওয়ার সময় শিশুরা সড়কের পাশে একা থাকা, যা তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে, তা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

শিশুদের বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সামাজিক সেবা বিভাগ ইতিমধ্যে শিশুরা ‘সেইভ হোম’ এ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় গৃহহীন শিশু সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে শিশু ত্যাগের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো একত্রে কাজ করে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য সমর্থন প্রদান করবে।

অবশেষে, পুলিশ ও সামাজিক সেবা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মামলার অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাবার সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণকে জানানো হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments