ধারা-৯, ঢাকা-তে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে দৌড়াতে ইচ্ছুক তাসনিম জারা, স্বাক্ষর সংগ্রহের দ্বিতীয় দিনেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম দিনে প্রায় তিন হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহের পর, আজকের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়। স্বাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্বে তার স্বামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) যৌথ সমন্বয়কারী খালেদ সাইফুল্লাহ দুপুরে জানিয়েছেন যে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে।
ইলিশ বাজারের কাছাকাছি খিলগাঁও এলাকায় তাসনিম জারা গত রবিবার থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন। স্বাধীন প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, প্রার্থীকে তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের কমপক্ষে এক শতাংশের সমর্থন স্বাক্ষর হিসেবে জমা দিতে হয়, যা প্রায় চার হাজার পাঁচশো স্বাক্ষরের সমান। এছাড়া, ভোটার তালিকা অনুযায়ী স্বাক্ষর যাচাই, শপথপত্র এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলে এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য নির্বাচনী কমিশন পাঁচটি ভিন্ন সিস্টেম (এসএমএস, অনলাইন সেবা, ফোন কল, কিউআর কোড এবং একটি অতিরিক্ত চ্যানেল) সরবরাহ করে। তাসনিম জারার দল জানিয়েছে যে, আজকের সার্ভার ব্যাঘাতের ফলে এই সব সিস্টেমই অচল হয়ে পড়েছে। ফলে, স্বাক্ষর যাচাই এবং একই দিনে নামনির্ধারণ ফর্ম জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালেদ সাইফুল্লাহ উল্লেখ করেন, “স্বাক্ষরগুলোকে ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে, কিন্তু বর্তমানে সব যাচাই সিস্টেমই বন্ধ। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংগ্রহ, যাচাই এবং ফর্ম জমা দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।”
এই সমস্যার মোকাবিলায় দলটি নিজস্ব একটি যাচাই পদ্ধতি গড়ে তুলেছে এবং তা ব্যবহার করে স্বাক্ষর যাচাই করার চেষ্টা করছে। যদিও সরকারী চ্যানেলগুলো বন্ধ, তবু দলটি প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে চায়।
স্বাধীন প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণে তাসনিম জারার প্রচেষ্টা এবং বর্তমান ইসিসি সার্ভার সমস্যার প্রভাব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদি স্বাক্ষর যাচাই সফল না হয়, তবে তার নামনির্ধারণ ফর্ম সময়মতো জমা না হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা তার স্বাধীন প্রার্থিতা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, স্বাক্ষর সংগ্রহের অগ্রগতি এবং দলীয় উদ্যোগ দেখিয়ে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনী কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, স্বাধীন প্রার্থী হতে হলে বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে, কমপক্ষে পঁচিশ বছর বয়স পূর্ণ থাকতে হবে এবং ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে। তাসনিম জারার স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রচেষ্টা এই শর্তগুলো পূরণে সহায়তা করবে কিনা, তা আগামী দিনগুলিতে নির্ধারিত হবে। বর্তমান সার্ভার ব্যাঘাতের সমাধান না হলে স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে, যা শেষ মুহূর্তে নামনির্ধারণ ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা সংকুচিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে তাসনিম জারার দল এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কীভাবে প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করে তাদের প্রচার চালিয়ে যাবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।



