বিগ ব্যাশ লিগের অস্ট্রেলিয়ান সিজনে, হ্যারিকেনস দল মেলবোর্ন রেনেগেডসকে চার উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে। এই জয়ে বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ রেজাল্টের মূল অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। রিশাদ প্রথম ব্যাটিং ইনিংসের পরে তুর্নে টস জিতার পরই বলিং শুরু করেন, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক।
রিশাদ এখনও ক্লাসিক্যাল লেগ স্পিনার হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি পাননি, তবে তার গতি ও বাউন্সের ব্যবহার ধীরে ধীরে বৈচিত্র্যপূর্ণ হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার কার্যকারিতা বেশি, এবং এই প্রথম বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ তাকে আরও পরিপক্ক করে তুলছে। হ্যারিকেনসের কোচ দল তার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ওভারগুলোতে ব্যবহার করেছে।
টস জিতার পর হ্যারিকেনস প্রথম বলিং ওভার রিশাদের হাতে নেয়া হয়। তিনি ওভারে মোট আট রান দিলেন, কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে, যা টিমের প্রাথমিক রিসার্কের জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও এই ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও, রিশাদের গতি ও লাইনটি ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং প্রমাণিত হয়।
দ্বিতীয় ওভারে রিশাদ দ্রুত রিদমে ফিরে এসে ছয় রান conced করে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেন। এই উইকেটটি রেনেগেডসের শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মধ্যে একজনকে সরিয়ে দিল, যা হ্যারিকেনসের দলে মনোবল বাড়িয়ে দিল। ওভারটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের কিলার বোলারদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
ম্যাচের মাঝামাঝি পর্যায়ে রিশাদকে আবারও নাইনতম ওভারে ডাকা হয়। প্রথম বলেই তিনি আরেকটি উইকেটের সুযোগ পেতে পারতেন, তবে ব্যাটসম্যান অলিভার পিক লং অনে আঘাত করে বলটি রিশাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। এই মুহূর্তে হ্যারিকেনসের ফিল্ডার নিকিল চৌধুরী শীর্ষে একটি ক্যাচ মিস করেন, যার ফলে রেনেগেডসকে ছয় রানের ছক্কা অর্জন করতে হয়।
রিশাদের পুরো পারফরম্যান্সে তিনি মোট দুইটি উইকেট নেন এবং ১৪ রান দেন, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অর্থবহ অবদান। তার স্পিনের ভিন্নতা এবং গতি পরিবর্তন ব্যাটসম্যানদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল, বিশেষ করে রেনেগেডসের মাঝারি অর্ডার খেলোয়াড়দের ওপর। যদিও তিনি এখনও ক্লাসিক্যাল লেগ স্পিনের সব দিক সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করেননি, তবে এই ম্যাচে তার প্রভাব স্পষ্ট।
হ্যারিকেনসের ক্যাপ্টেন এলিস রিশাদের ওপর বাড়তি বিশ্বাস প্রকাশ করেন এবং তাকে পরবর্তী ওভারগুলোতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা জানান। রিশাদের এই অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে বিদেশি লিগে খেলায়, তার গেম প্ল্যানকে সমৃদ্ধ করেছে বলে কোচিং স্টাফের মন্তব্য। দলটি রিশাদের উন্নয়নকে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে চায়।
মেলবোর্ন রেনেগেডসের দিক থেকে, অলিভার পিকের আক্রমণাত্মক শট এবং রিজওয়ানের স্বল্প সময়ের আঘাতের পরেও তার ধারাবাহিকতা দলকে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়। তবে রেনেগেডসের ব্যাটিং লাইনআপ শেষ পর্যন্ত হ্যারিকেনসের চাপ মোকাবেলা করতে পারেনি, ফলে তারা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। হ্যারিকেনসের বোলিং ইউনিট, বিশেষ করে রিশাদের স্পিন, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচের শেষের দিকে হ্যারিকেনসের ব্যাটিং ইউনিট চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয় এবং রেনেগেডসকে চার উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে। এই জয় হ্যারিকেনসের টেবিলে শীর্ষে উঠতে সহায়তা করে এবং রিশাদের জন্য একটি আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটায়। দলটি এখন পরবর্তী রাউন্ডে একই গ্রুপের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যেখানে রিশাদের স্পিনের ভূমিকা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।
বিগ ব্যাশের এই সিজনে রিশাদের পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তিনি দেশের ঘরে-ঘরে আরও প্রভাবশালী স্পিনার হিসেবে উদ্ভাসিত হতে পারেন। হ্যারিকেনসের পরবর্তী ম্যাচের সূচি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত, যেখানে রিশাদের অবদান আবারও দলে গতি যোগাবে।



