বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেশের উন্নয়ন ও সুন্দর গঠনকে কেন্দ্র করে এক ঐক্যবদ্ধ আহ্বান জানিয়েছেন। ১৭ বছর পর দলীয় নেতাদের সমাবেশে তিনি এই বার্তা তুলে ধরেন, যা তার ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সূচক।
সকাল ৩:৩০ টার দিকে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে পৌঁছানো তারেক রহমানকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে সম্মানিত করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম-সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং দলের অঙ্গ-সঙ্গঠন ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, পাশাপাশি কার্যালয়ের কর্মচারীরা।
কার্যালয়ে প্রবেশের পর তারেক রহমান দলের নেতাদের সঙ্গে স্বল্প সময়ের কুশল বিনিময় করেন এবং সংগঠনগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই আলোচনায় তিনি বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের গৃহ নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের ওপর জোর দেন।
বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতাদের উপস্থিতি এবং ফুলের স্বাগত তারেক রহমানের ফিরে আসার পর দলের অভ্যন্তরে পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেয়। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজকের এই সমাবেশ তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি, যা দলের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্যম জাগাতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সরকারী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই আহ্বানকে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে দেশের উন্নয়নমূলক নীতিমালার প্রতি সকল পক্ষের মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের দলীয় সমাবেশ ও নীতি ঘোষণা রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় ঐক্য ও কার্যকরী নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই তারেক রহমানের এই আহ্বান কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হলে তা দেশের গঠনমূলক পরিবর্তনে সহায়তা করবে।
বিএনপি এখনো তারেক রহমানের নেতৃত্বে কী ধরনের নীতি ও প্রকল্প চালু করবে তা স্পষ্ট নয়, তবে আজকের সমাবেশে উত্থাপিত বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ভিত্তি হতে পারে। দলীয় সংগঠনগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই আহ্বান প্রচার করতে হবে, যাতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়।
সংক্ষেপে, তারেক রহমানের নয়াপল্টনে উপস্থিতি এবং দেশের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে করা আহ্বান দলীয় অভ্যন্তরে নতুন উদ্যমের সূচনা নির্দেশ করে। এটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা আসন্ন সময়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রভাব ফেলবে।



