ইন্টারিয়র মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া সোমবার রাতি ২ টায় মারমারা সাগরের তীরবর্তী ইয়ালোভা শহরে অনুষ্ঠিত অপারেশনে তুর্কি পুলিশ তিনজনের প্রাণ হারিয়ে এবং আটজন পুলিশ ও একজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। একই সময়ে, ইসলামিক স্টেটের ছয়জন সদস্যকে গুলিবিদ্ধ করে নিহত করা হয়েছে।
মন্ত্রীর মতে, এই আক্রমণটি একাধিক সমন্বিত অভিযানের অংশ ছিল; মোট ১৫টি প্রদেশে ১০৮টি ঠিকানায় একই সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইয়ালোভা ছাড়াও অন্যান্য প্রান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ চালানো হয়, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ।
অপারেশনের সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়, ফলে তিনজন পুলিশ শিহরণজনিত শর্তে প্রাণ হারায়। আহতদের মধ্যে আটজন পুলিশ এবং একটি নিরাপত্তা কর্মী অন্তর্ভুক্ত, যাদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
ইসলামিক স্টেটের ছয়জন সদস্যের মৃত্যু সবই তুর্কি নাগরিক, এবং তাদের সঙ্গে থাকা পাঁচজন নারী ও ছয়জন শিশুকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তরের সময় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলের একজন প্রসিকিউটর ১৩৭ জন সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট সদস্যের আটক আদেশ দেন। এই পদক্ষেপটি গৃহীত হয়েছিল কারণ গোষ্ঠীটি বছরের শেষের ছুটির সময়ে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা করছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।
তুরস্কের সিরিয়ার সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) সীমান্ত রয়েছে, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সীমান্ত পারাপারকে কঠিন করে তুলতে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়িয়ে দেয়। সীমান্তে নিয়মিত নজরদারি ও গশ্বর অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইসলামিক স্টেট সম্প্রতি পালমারায় আমেরিকান সৈন্য ও অনুবাদককে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যার ফলে দুইজন সৈন্য ও এক অনুবাদক নিহত হয়। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে আটক করেছে, যাকে আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
মন্ত্রীর মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর সমন্বিত অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট তদন্ত বিভাগগুলো ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আনতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তুর্কি বিচারিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, সন্ত্রাসী অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত, এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে একই রকম সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় গশ্বর বাড়িয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচল রোধ করা হবে।
এই ঘটনার পর, তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উপস্থাপন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ডিজিটাল ডেটা, যোগাযোগ রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণ করে গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে কাজ করছে।
মন্ত্রীর আজ বিকালের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণহানি ও আঘাতের সংখ্যা কমাতে ভবিষ্যতে আরও উন্নত গশ্বর প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হবে। নিরাপত্তা সংস্থার এই প্রতিশ্রুতি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।



