বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারিক রহমান আজ বিকেল প্রায় ৩:৩০ টায় ঢাকা নয়াপাল্টনের কেন্দ্রীয় দফতরে গিয়ে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের স্বাগত জানালেন। গুলশানের পার্টি শাখা থেকে গাড়ি চালিয়ে তিনি দফতরে পৌঁছান, যেখানে দুপুর থেকে সকালের পরেই সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
দফতরের দ্বিতীয় তলায় তারিকের সংক্ষিপ্ত ভাষণ শোনার জন্য বহু নেতা ও কর্মী একত্রিত হয়। তিনি রাস্তায় বাধা সৃষ্টি না করার গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, “যদি আমরা রাস্তায় গাছ গাছি, সাধারণ মানুষ চলাচলে অসুবিধা ভোগ করবে।” এভাবে তিনি পার্টির সক্রিয়তা ও জনসাধারণের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তারিক আরও উল্লেখ করেন, “আজ কোনো অনুষ্ঠান না থাকায় রাস্তায় দখল না করে চলাচল স্বচ্ছন্দ রাখি। ভবিষ্যতে কোনো বড় সমাবেশের সময় আমি আবার আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।” তিনি পার্টির প্রতিটি স্তরের সদস্যকে দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে উৎসাহিত করেন।
বক্তৃতায় তিনি ছোটখাটো কাজের গুরুত্বেও জোর দেন। “যদি রাস্তায় কোনো কাগজ বা আবর্জনা পড়ে থাকে, তা তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার করা উচিত। এ ধরনের ছোট কাজেই দেশের গঠনমূলক পরিবর্তন শুরু হয়,” তিনি বলেন এবং সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
তারিকের বক্তব্যের শেষে তিনি পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের রাস্তায় গতি বজায় রাখতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য কাজ করতে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দ্রুত সুশাসনের জন্য প্রার্থনা করেন।
দফতরের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়াতে সকাল থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়। পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা এড়াতে নিরাপত্তা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে তদারকি করছেন।
বিএনপি নেতারা তারিকের উপস্থিতিকে পার্টির পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বহু বছর পর দফতরে ফিরে আসা তাকে পার্টির অভ্যন্তরে নতুন উদ্যমের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, তারিকের এই সফর পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা উল্লেখ করেন, রাস্তায় গতি বজায় রাখা এবং জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করা পার্টির ইমেজ উন্নত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
বিএনপির কর্মীরা তারিকের আহ্বান মেনে রাস্তায় গাছ গাছা বন্ধ করে চলাচল স্বচ্ছন্দ রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দফতরের আশেপাশে গাছ গাছা ও পার্কিং সমস্যার সমাধানে তারা স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সফরটি পার্টির অভ্যন্তরে একত্রিত হওয়ার এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। নেতারা আগামী সপ্তাহে দফতরে আরও আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে পার্টির সংগঠন ও কর্মসূচি নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
সামগ্রিকভাবে, তারিকের নয়াপাল্টন দফতরে উপস্থিতি এবং রাস্তায় গতি বজায় রাখার আহ্বান পার্টির জনমত গঠন এবং সামাজিক দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।



