ইরানের মহাকাশ সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে যে দেশটি এখন সম্পূর্ণ সক্ষম মহাকাশ শিল্পের অধিকারী, যা বিশ্বে মাত্র কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি। এই ঘোষণার সঙ্গে তিনটি নতুন ইরানি উপগ্রহের উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় দুইশো দেশের মধ্যে মাত্র দশ থেকে একারোটি দেশই পুরো মহাকাশ প্রযুক্তি চক্র—উপগ্রহ নির্মাণ, রকেট উৎপাদন, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ডেটা গ্রহণ—সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে সক্ষম। ইরান এখন এই সীমিত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জনের মূল উপাদানগুলোতে উপগ্রহের নকশা ও উৎপাদন, রকেটের উন্নয়ন, উৎক্ষেপণ সাইটের স্থাপন, মিশন কন্ট্রোল সেন্টার গঠন এবং মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত চিত্র ও তথ্যের প্রক্রিয়াকরণ অন্তর্ভুক্ত। এই সব ক্ষেত্রেই ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মহাকাশ সংস্থার প্রধানের মতে, রোববারের ঘোষণায় তিনটি ইরানি উপগ্রহকে শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে মহাকাশ শিল্পকে বিশ্বের সবচেয়ে জটিল শিল্পগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।
গত দুই দশকে ইরান প্রায় ত্রিশটি উপগ্রহ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ করেছে। এই উপগ্রহগুলো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, যোগাযোগ এবং পর্যবেক্ষণমূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় সমান সংখ্যক উপগ্রহ বর্তমানে নির্মাণাধীন, যা দেশের মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উৎপাদন লাইনে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত অগ্রসর হওয়ায়, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ত্রিশটিরও বেশি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংখ্যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা ইরানের গবেষণা ও উন্নয়ন নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
সম্পূর্ণ সক্ষম দেশ হিসেবে ইরানের অবস্থান কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতিই নয়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দেশটি এখন উপগ্রহ ডেটা শেয়ারিং, রিমোট সেন্সিং এবং যোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করছে।
এই অর্জন ইরানের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও বিনিয়োগের ফল, যেখানে সরকার ও বিজ্ঞানী দলগুলো ধারাবাহিকভাবে রকেট প্রযুক্তি, উপগ্রহ সিস্টেম এবং মিশন কন্ট্রোলের উন্নয়নে কাজ করে আসছে। ফলে দেশটি এখন সীমিত সংখ্যক পূর্ণ সক্ষম মহাকাশ দেশের মধ্যে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের এই অগ্রগতি অঞ্চলের মহাকাশ কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দেশকে মহাকাশ প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে। আপনি কি মনে করেন, ইরানের এই পদক্ষেপগুলো দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মহাকাশ নীতি পরিবর্তনে কী প্রভাব ফেলবে?



