বরগুনা জেলায় শীতের তীব্র ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (এআরআই) রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এক মাসের মধ্যে সরকারি রেকর্ডে রোগীর সংখ্যা সাতশো অধিক পৌঁছেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি।
১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়কালে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোট ৭৭৩ রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এই হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার ক্ষমতা সম্পন্ন প্রধান রেফারেল কেন্দ্র, যেখানে শীতজনিত শ্বাসযন্ত্রের রোগীর জন্য বিশেষ ওয়াকডাউন ও আইসোলেশন ব্যবস্থা রয়েছে।
রোগীদের মধ্যে ০ থেকে ২০ বছর বয়সের শিশু ও কিশোরদের সংখ্যা সর্বাধিক, যা নির্দেশ করে যে তরুণ বয়সের জনগোষ্ঠী শীতের এই সংক্রমণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ছোট বয়সের রোগীরা সাধারণত জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে পানি বের হওয়া লক্ষণ দেখায়, যা দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে।
একই সঙ্গে, ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় পঞ্চাশজন নারী ও পুরুষ ঘন কুয়াশা ও শৈত্যের প্রভাবের ফলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। এই বয়সের গোষ্ঠী সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে যুক্ত থাকায় শীতের ঠাণ্ডা তাদের শ্বাসযন্ত্রকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা উল্লেখ করেছেন যে কুয়াশা শ্বাসযন্ত্রের মিউকাস স্তরকে শুষ্ক করে দেয়, ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায়, রবিবার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত, জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যার মধ্যে ১৯ রোগীকে এআরআই রোগ নির্ণয় করা হয়েছে, যার মধ্যে দশজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এই সংখ্যা একদিনে গড়ে প্রায় ১৩ রোগীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা শীতের শেষ সপ্তাহে রোগের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
আজ সকালে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুইজন এবং পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এ রোগীরা প্রধানত হালকা জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের অভিযোগ নিয়ে আসছেন, এবং ডাক্তারদের নির্দেশে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও জ্বর কমানোর ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে শীতের সময় পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা, ঘরের বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং হঠাৎ ঠাণ্ডা শ্বাসে রোধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া, শ্বাসযন্ত্রের অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা এবং স্ব-পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে জটিলতা রোধ করা সম্ভব।
শীতের এই মৌসুমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা সেবা মূল চাবিকাঠি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা জানিয়েছেন যে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটার পেছনে দ্রুত সনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আপনার পরিবারকে শীতের সুরক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে আপনি কী ভাবছেন? যথাযথ গরম কাপড়, পরিষ্কার বাতাস এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা গ্রহণের মাধ্যমে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।



