পাকিস্তানি দ্রুতগতি বোলার ফাহিম আশরাফ সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের হয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ৩.৫ ওভারে ৫ উইকেট নেন, ফলে তিনি তাসকিন আহমেদের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) একই ইনিংসে দুইবার পাঁচ উইকেট নেওয়া তৃতীয় পেশা bowler হলেন।
ফাহিমের এই পারফরম্যান্সে তিনি মাত্র ১৭ রানই ছেড়ে পাঁচটি ব্যাটসম্যানকে আউট করতে সক্ষম হন, যা টি২০ ফরম্যাটে এত কম দৌড়ে এত বেশি উইকেট নেওয়া একটি বিরল ঘটনা। তার এই শট-ডাউন রাইডার্সের দলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে শুরুর ওভারগুলোতে যেখানে রাইডার্সের স্কোর দ্রুত বাড়তে পারত।
এ বছরের জানুয়ারিতে ফরচুন বরিশালের হয়ে একই মৌসুমে ফাহিম আরেকটি স্মরণীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিরুদ্ধে ৩.১ ওভারে তিনি মাত্র ৫ রানই ছেড়ে ৭ উইকেট নেন। এই পারফরম্যান্সটি বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ৫‑উইকেটের মধ্যে একটি এবং একই ইনিংসে দুইবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার শর্ত পূরণ করে।
ফাহিমের এই দুটো শট-ডাউন তাকে তৃতীয় এমন পেশা bowler করে তুলেছে, যাঁর নাম বিপিএলের রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। পূর্বে তাসকিন আহমেদ এবং থিসারা পেরেরা এই রেকর্ডে ছিলেন। তাসকিনের ক্ষেত্রে তিনি দুইটি ভিন্ন দলের হয়ে একই ইনিংসে দুবার পাঁচ উইকেট নেন, আর পেরেরার ক্ষেত্রেও একই রকম দুইবারের সাফল্য রয়েছে।
তাসকিন আহমেদের রেকর্ডের বিশদে ফিরে গেলে দেখা যায়, জানুয়ারিতে মিরপুরে তিনি রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে ৪ ওভারে ১৯ রানে ৭ উইকেট নেন, যা তার বিপিএল ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ বোলিং পারফরম্যান্স। এই শট-ডাউন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ঘটেছিল এবং টিমের জন্য বড় সুরক্ষা প্রদান করেছিল। তাছাড়া, ২০১৬ সালের বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে রাজশাহী কিংসের বিরুদ্ধে তিনি ৫ উইকেটের পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, যা তার প্রথম পাঁচ‑উইকেটের দৌড়।
থিসারা পেরেরার রেকর্ডও অনন্য। ২০১৫ সালে তিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেন। ছয় বছর পরে, ২০১৯ সালে তিনি ঢাকা প্লাটুনের হয়ে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে একই সংখ্যক উইকেট নেন। উভয়ই টি২০ ফরম্যাটে পাঁচ‑উইকেটের দৌড়, যা সাধারণত এক ওভারে একাধিক ব্যাটসম্যানকে আউট করা কঠিন।
এই তিনজনের সাফল্য টি২০ ক্রিকেটে দ্রুত গতি, সঠিক লাইন এবং পরিবর্তনশীল গতি ব্যবহার করে ব্যাটসম্যানকে ধ্বংস করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। বিপিএলের মতো উচ্চ-প্রোফাইল লিগে একই ইনিংসে দুইবার পাঁচ‑উইকেট নেওয়া মানে হল বোলারটি পুরো ওভারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারছেন, যা টিমের জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফাহিমের এই শট‑ডাউন রাইডার্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করতে পারে, যদিও ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল এখানে উল্লেখ করা হয়নি। বিপিএল শিডিউল চলমান থাকায় রাইডার্সের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ধরনের বোলিং পারফরম্যান্স টিমকে টেবিলে শীর্ষে রাখতে সাহায্য করবে।
বিপিএলের এই মৌসুমে দ্রুত গতি, বোলারদের পরিবর্তনশীল ডেলিভারি এবং ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক স্টাইলের মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে। ফাহিম আশরাফের মতো আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ লিগের মান বাড়িয়ে তুলছে এবং স্থানীয় বোলারদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। ভবিষ্যতে আরও কোন বোলার এই রেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ করবে তা দেখার অপেক্ষা রয়ে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত ফাহিমের পারফরম্যান্সটি বিপিএলের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হবে।



