ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সোমবার দুপুরে নরসিংদী-২ (পলাশ) নির্বাচনী মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং তার নীতিমালা মেনে চলে, তবে দেশের বর্তমান সব কষ্টের সমাধান হবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যা রাজনৈতিক দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সমাবেশের রূপ নেয়।
ড. মঈন খান বলেন, গণতন্ত্রকে সব রোগের নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি যুক্তি দেন, যখন জনগণ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের মাধ্যমে শাসককে নির্বাচন করে, তখন সরকার জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে এবং দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধানকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন।
তিনি অতীতের একটি শাসনব্যবস্থার উল্লেখ করে বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের কাঁধে চেপে বসে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। সেই শাসনব্যবস্থার ফলে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে গিয়েছিল, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
ড. মঈন খান আরও স্পষ্ট করেন, বিএনপি একটি উদারপন্থী রাজনৈতিক দল, যা মানুষের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি সবসময়ই জনগণের স্বার্থে কাজ করার এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলটির ঐতিহাসিক নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ভোটের ফলস্বরূপ জবাবদিহিমূলক সরকার গড়ে উঠবে, এটাই ড. মঈন খানের মূল বক্তব্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখন শাসককে জনগণের কাছ থেকে বৈধ অনুমোদন পাওয়া যায়, তখনই সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং দেশের উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ড. মঈন খানের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, দলটি এখনো গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণে অটল রয়েছে এবং দেশের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। তারা উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এই সময়ে ruling party (আওয়ামী লীগ) থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ড. মঈন খানের মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যা ভোটারদের মধ্যে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা বাড়াতে পারে।
ড. মঈন খানের এই মন্তব্যগুলি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে গণতন্ত্রের ভূমিকা পুনরায় তুলে ধরেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়লে শাসনব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
বিএনপি দলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলা শাসক গঠন করা, যা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হবে। ড. মঈন খান উল্লেখ করেন, দলটি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ বজায় রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, ড. আব্দুল মঈন খানের বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করে যে, গণতন্ত্রের নীতি মেনে চলা এবং স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে শাসককে নির্বাচন করা দেশের সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।



