22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশিবগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হয়ে গৃহহিংসা, দুজন গ্রেপ্তার ও গুরুতর আঘাত

শিবগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হয়ে গৃহহিংসা, দুজন গ্রেপ্তার ও গুরুতর আঘাত

গত বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা করে ৭-৮ জনের দল মারধর করে। শিকারের নাম আবু সুফিয়ান, যিনি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি আছেন। ঘটনাস্থলে আহতের শারীরিক অবস্থা ও অপরাধীর রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে।

আবু সুফিয়ান জানান, তিনি শিবগঞ্জের শিবগঞ্জে গিয়ে এক দল লোকের সঙ্গে মুখোমুখি হন, যারা তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গাছের নিচে টেনে নিয়ে গিয়ে গুলি না করে কাঁধে কাঁধে মারধর করে। শিকারের মতে, আক্রমণকারী দলটি তার রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে বিরোধে লিপ্ত ছিল; তিনি নিজে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেন, আর আক্রমণকারীরা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত।

আবু সুফিয়ান শিকারের সময় একাধিকবার জিজ্ঞেস করেন, “আমাকে কেন মারছেন? আমার কোনো অপরাধ নেই,” তবে আক্রমণকারীরা তার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমে সাত থেকে আটজন একসঙ্গে তাকে মারধর করে, পরে দুজন আলাদা করে তার গলা ও কাঁধে কুঠুরি চালিয়ে যায়।

আক্রমণের পরপরই শিকারের বাবা রবিউল ইসলাম শিবগঞ্জ থানা-এ গিয়ে অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত তদন্তে এগিয়ে গিয়ে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আদালত উভয়কে জেলখানায় পাঠায়।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের নাম শাহী আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রজ্জাক (২৩)। উভয়ই স্থানীয় জামায়াতের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, রাতের অন্ধকারে ঘটনার দায়িত্ব আরোপ করা হয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ওপর, প্রকৃত দায়িত্ব নির্ধারণে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

আবু সুফিয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শারীরিক ক্ষতিগুলি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার বাম হাতে কুঠুরির চিহ্ন, কনুইয়ের নিচের অংশে কাটার চিহ্ন দেখা যায়, যা সম্ভবত কনুই কাটা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। বাম পা ও হাত, ডান হাত সবই ব্যান্ডেজে মোড়ানো অবস্থায় রয়েছে। ডান হাতে অস্ত্রোপচারের পর ইস্পাতের এক্সটার্নাল ফিক্সেটর বসানো হয়েছে, যা হাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

আক্রমণকারীরা শিকারের এক হাতে “স্যার” বলে সম্বোধন করে, এবং শিকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন, “কিসের জন্য মারছি?” শিকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কিছু সময় পর শিকারের হাত-পা থেকে ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হয়, ফলে তিনি মাটিতে গড়িয়ে পড়েন। আশেপাশের দোকানদাররা ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে রাখেন।

পুলিশের মতে, গ্রেফতারকৃত দুজনের পাশাপাশি আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন রয়েছে, যাদের অনুসন্ধান চালু রয়েছে। শিকারের পরিবার দাবি করে, আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদেশে কাজ করেছে, তবে তদন্তকারী সংস্থা এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রমাণ প্রকাশ করেনি। আদালত আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণের কথা জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শিবগঞ্জে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে। চিকিৎসা দল জানিয়েছে, বাম কনুইয়ের সম্ভাব্য কাটা থেকে রক্ষা পেতে অতিরিক্ত শল্যচিকিৎসা করা হতে পারে।

অবশেষে, এই হিংসাত্মক ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। শিকারের পরিবার ও সমর্থকরা ন্যায়বিচার ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে চলেছেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments