ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় ১ জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন হবে। মেলাটি দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হিসেবে পরিকল্পিত এবং ব্যবসা‑সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মধ্যবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন।
মেলার আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে মেলার মূল তথ্য প্রকাশ করেছে। সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা শহরের বিভিন্ন দিক থেকে ২০০টির বেশি শাটল বাস চালু করা হবে। এই বাসগুলো খেজুরবাগান, কুড়িল বিশ্বরোড, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলার প্রবেশদ্বারে পৌঁছাবে, ফলে ভিড় কমে এবং সময়সীমা মেনে চলা সহজ হবে।
শাটল বাসের পাশাপাশি রাইড‑শেয়ার প্ল্যাটফর্ম পাঠাও-ও মেলার ভিজিটরদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। এই উদ্যোগটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশগত চাপ হ্রাসে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেলায় প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫০ টাকা, যেখানে ১২ বছরের নিচের শিশুর টিকিট ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই মাসে আহত ব্যক্তিরা তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা পাবেন। টিকিটের বিক্রয় অনলাইনেও চালু, যেখানে ক্রেতারা QR কোড স্ক্যান করে সরাসরি প্রবেশদ্বার পার হতে পারবেন।
মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে, আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শেষ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সময়সূচি ব্যবসায়িক অংশগ্রহণকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করে, যাতে তারা পণ্য প্রদর্শন ও চুক্তি স্বাক্ষরে মনোযোগ দিতে পারে।
মেলায় মোট ৩২৪টি দেশি-বিদেশি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকবে, যা বিভিন্ন শিল্পখাতকে অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রধান ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস ও বিউটি এডস, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, জুট ও জুটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া ও কৃত্রিম চামড়া, জুতা, স্পোর্টস গুডস এবং স্যানিটারি সামগ্রী।
বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং মালয়েশিয়া থেকে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান। এই দেশগুলো থেকে আসা পণ্য ও সেবা মেলায় স্থানীয় ব্যবসায়িকদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা করার সুযোগ পাবে, যা রপ্তানি‑ইম্পোর্টের নতুন দিক উন্মোচন করবে।
গত বছরের তুলনায় এই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা কমে ৩৪৩ থেকে ৩২৪-এ নেমে এসেছে, তবে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের দিক থেকে বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কম সংখ্যক হলেও উচ্চ মানের পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের মাধ্যমে মেলার গুণগত মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে মেলাটি দেশের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। শাটল বাস ও রাইড‑শেয়ার সুবিধা ভ্রমণ খরচ কমিয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করবে। টিকিটের সাশ্রয়ী মূল্য এবং অনলাইন প্রবেশের সুবিধা দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়াবে, যা সরাসরি বিক্রয় ও ব্যবসায়িক চুক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মেলার সময়সূচি ও অবকাঠামো পরিকল্পনা দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও প্রবেশযোগ্য করে তুলবে। বিশেষ করে রপ্তানি‑মুখী শিল্পখাতের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও সরবরাহকারীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন একটি বড় সুবিধা। ভবিষ্যতে এ ধরনের মেলা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে দেশের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হবে এবং বাজারের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
সারসংক্ষেপে, পূর্বাচলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা স্থানীয় ও বিদেশি ব্যবসায়িকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে। শাটল বাস, রাইড‑শেয়ার ছাড়, সাশ্রয়ী টিকিট ও অনলাইন প্রবেশের সমন্বয় মেলাকে সহজলভ্য ও কার্যকর করে তুলবে, যা দেশের বাণিজ্যিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



