আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২-এ আজ প্রোসিকিউশন জানিয়েছে, জুলাই বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাতজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। প্রোসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের সামনে একটি ‘নন‑এক্সিকিউশন’ রিপোর্ট উপস্থাপন করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে অভিযুক্তদের খুঁজে পায়নি।
এই মামলায় পূর্বে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। ওয়ারেন্টে উল্লেখিত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সহ-সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম, প্রাক্তন তথ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আলি আরাফাত, যুব লীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পারাশ, তার সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হোসেন নিকিল, ছাত্র লীগের সভাপতি সাদ্দাম হুসেইন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ এনান।
প্রোসিকিউশন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বর্তমান বাসস্থান ও পারিবারিক ঠিকানায় গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো সনাক্তকরণ করতে পারেনি। ফলে গ্রেফতার ওয়ারেন্টের কার্যকরীতা ব্যাহত হয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি থেমে গেছে। এই পরিস্থিতি ট্রাইব্যুনালের সামনে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ধারিত হবে।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) তৃতীয় ধারায় তার সাক্ষ্য প্রদান চালিয়ে গেছেন। তিনি গত বছর জুলাই বিদ্রোহের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সায়েদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের বিশদ বিবরণ তুলে ধরছেন। আইও-এর সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে যুক্ত হওয়ায় মামলার প্রমাণভিত্তি শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আইও-এর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৬ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে পুনরায় আইও তার বিবরণ উপস্থাপন করবেন, যা মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ট্রাইব্যুনাল এই তারিখে আইও-এর সম্পূর্ণ বিবরণ শোনার পর পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবে।
একই সময়ে নির্বাচন কমিশনের সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে, ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট ৩,১৪৪টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে রোববার পর্যন্ত মাত্র ১৬৬টি পত্রই জমা হয়েছে। এই তথ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা নির্দেশ করে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রোসিকিউশনের এই প্রতিবেদন ও আইও-এর চলমান সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে মামলার অগ্রগতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধান ব্যর্থতা এবং গ্রেফতার ওয়ারেন্টের অমীমাংসিত অবস্থা উভয়ই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ট্রাইব্যুনাল ৬ জানুয়ারি আইও-এর সাক্ষ্য শোনার পর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য একটি পরিষ্কার নির্দেশনা প্রদান করবে।



