বোলিভুডের জনপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান এবং পরিচালক কবির খান আবার একসাথে কাজের মঞ্চে নামবেন। দুজনের পূর্বের সহযোগিতা ‘চাঁদু চ্যাম্পিয়ন’ পরবর্তী প্রকল্পটি একটি স্পোর্টস-অ্যাডভেঞ্চার ধাঁচের ছবি, যার পটভূমি কাশ্মীরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। শুটিং শুরু হবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং ছবির মুক্তি লক্ষ্য করা হয়েছে ২০২৭ সালে।
প্রকল্পের বাজেট উল্লেখযোগ্য, যা উচ্চমানের প্রোডাকশন নিশ্চিত করবে। কার্তিককে ছবির জন্য কঠোর শারীরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং তিনি শুটিংয়ের আগে শারীরিক রূপান্তরের জন্য প্রস্তুতি নেবেন। তার শারীরিক পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণকে ছবির মূল আকর্ষণ হিসেবে গন্য করা হয়েছে।
শুটিং পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রকৃত স্থানে হবে। কাশ্মীরের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক লোকেশনেও দৃশ্য ধারণ করা হবে, যা ছবির ভিজ্যুয়াল রিচ বাড়াবে। শুটিং সময়সীমা ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত, ফলে পুরো প্রোডাকশন প্রায় আট মাস চলবে।
কাবির খান ছবির শুটিং সময়সূচি নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তিনি বলছেন, প্রকল্পের স্কেল এবং ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে শুটিং টিমকে বহু দেশ ভ্রমণ করতে হবে। এই ধরনের বহুমুখী লোকেশন শুটিং সাধারণত উচ্চমানের সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
কার্তিকের জন্য এই ছবিটি নতুন ধরণের বাণিজ্যিক প্রকল্প, যা তিনি ‘নাগজিলা’ শেষ করার পরই গ্রহণ করবেন। ‘নাগজিলা’ হল ধর্মা প্রোডাকশনের একটি বড় প্রকল্প, এবং তার পরের পদক্ষেপ হিসেবে এই স্পোর্টস-অ্যাডভেঞ্চার ছবিটি তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।
শুটিংয়ের পাশাপাশি, কার্তিক বর্তমানে বেশ কয়েকটি স্ক্রিপ্ট পর্যালোচনা করছেন। তিনি ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ‘ভুল ভুলাইয়া ৪’ ছবির কাজ শুরু করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এই প্রকল্পটি অ্যানিস বাজমীর সঙ্গে কাজ করা হবে এবং লভ রঞ্জনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
অন্যদিকে, কার্তিকের কাজের তালিকায় অ্যানুরাগ বসুর পরবর্তী ছবির কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত। সূত্র অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের মধ্যে অ্যানুরাগের ছবির বাকি শুটিং সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছেন। এভাবে তিনি একাধিক বড় প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখবেন।
প্রযোজনা দিক থেকে, ছবিটি অ্যাপ্লাস এন্টারটেইনমেন্টের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এই প্রোডাকশন হাউস পূর্বে বেশ কিছু সফল বাণিজ্যিক ছবি তৈরি করেছে এবং নতুন প্রকল্পে উচ্চমানের বিনিয়োগের জন্য পরিচিত।
প্রকল্পের ঘোষণার পর থেকে শিল্পের ভক্ত এবং মিডিয়া উভয়ই উত্তেজনা প্রকাশ করেছে। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং স্পোর্টস থিমের সংমিশ্রণকে নতুন ধরণের বক্স অফিস হিট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাবির খান ছবির শুটিংয়ের সময়সূচি এবং লোকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন না, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে প্রকল্পের স্কেল এবং ভিজ্যুয়াল দিক থেকে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
কাশ্মীরের পটভূমি ছবির গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাশ্মীরের পাহাড়ি দৃশ্য, হ্রদ এবং শীতল বায়ু ছবির অ্যাডভেঞ্চার উপাদানকে সমৃদ্ধ করবে।
সামগ্রিকভাবে, কার্তিক আরিয়ান এবং কবির খান এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে বোলিভুডের স্পোর্টস-অ্যাডভেঞ্চার জঁরে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চান। শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়বে এবং ২০২৭ সালে ছবির মুক্তি হলে বক্স অফিসে বড় সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।



