22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুপ্রিম কোর্টে সেংগারকে জেলে রাখার আদেশ, রেপের শাস্তি স্থগিতের আপিল রদ

সুপ্রিম কোর্টে সেংগারকে জেলে রাখার আদেশ, রেপের শাস্তি স্থগিতের আপিল রদ

দিল্লি উচ্চ আদালত যে রায়ে প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেংগারের আজীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল, তা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রদ করেছে। ফলে সেংগার রেপের শাস্তি কার্যকর থাকবে এবং তিনি অন্য একটি মামলায় জেলে রয়ে গেছেন।

কুলদীপ সিং সেংগার ২০১৯ সালে পি.ও.সি.এস.ও. (POCSO) আইনের অধীনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আজীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। সেই রায়ের পর উচ্চ আদালত গত সপ্তাহে শর্তসাপেক্ষে তার শাস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

উচ্চ আদালতের রায়ে সেংগারকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও, তিনি অন্য একটি মামলায় জেলে রয়ে গেছেন। ওই মামলায় শিকারের পিতার মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে তার জেলখানা অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধটি উত্তর প্রদেশের উনাও জেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়। শিকারী তার চাকরির আবেদন করতে গিয়ে সেংগারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তবে তাকে অপহরণ করে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার বিশদ তথ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

শিকারের পরিবার ২০১৮ সালে তার আত্মহত্যার প্রচেষ্টা জানায়, যখন তিনি পুলিশকে অকার্যকর বলে অভিযোগ করে নিজের ওপর আগুন লাগানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনা দেশের মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং মামলাটিকে জাতীয় দৃষ্টিতে নিয়ে আসে।

সেংগার তখন ভারতের শাসক দলীয় বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, এবং উনাও জেলায় তার রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য ছিল। রেপের অভিযোগ প্রকাশের পর দল থেকে তাকে বহিষ্কৃত করা হয় এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেমে যায়।

সেংগারের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালে, যখন শিকারের দুই আত্মীয়ের গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং শিকারের আইনজীবী গুরুতরভাবে আহত হন। এই দুর্ঘটনা শিকারের পরিবারকে আরও কষ্টের মধ্যে ফেলে দেয়।

এছাড়াও, শিকারের পিতা এপ্রিল ২০১৮-এ সেংগার ও তার সহকর্মীদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন। পুলিশ পাঁচজনকে অপরাধে দায়ী করে, তবে শিকারের পিতাকে অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জেলে মারা যান।

মার্চ ২০২০-এ সেংগারকে দায়িত্বশীল হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই শাস্তি তার পূর্বের রেপের দোষী রায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার অপরাধের মোট পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

উচ্চ আদালত রেপের শাস্তি স্থগিতের যুক্তি ছিল, অপরাধটি ‘অগ্রগণ্য’ (aggravated) হিসেবে গণ্য হবে কিনা, তা নির্ধারণ করা। পি.ও.সি.এস.ও. আইনের ধারা অনুযায়ী, যদি অপরাধী কোনো বিশ্বাস বা কর্তৃত্বের অবস্থানে থাকে, তবে শাস্তি কঠোর হয়। আদালত এই দৃষ্টিকোণ থেকে রেপের শাস্তি হ্রাসের সম্ভাবনা দেখেছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে সেংগারের রেপের শাস্তি পুনরায় কার্যকর হবে এবং মামলাটি মূল রায় অনুযায়ী চলবে। আদালত রায়ের স্থগিতের বৈধতা নিয়ে আরও আপিলের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

অধিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উভয় মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী শোনার কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে শিকারের পরিবার ও সমাজের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments