দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নামনির্ধারণের সময় বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও তার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর জানানো হয়। প্রার্থী চট্টগ্রাম-১০ আসনের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে উপস্থিত ছিলেন, তবে প্রায় একশত থেকে একশত পঞ্চাশ জন নেতা ও কর্মী অফিসের প্রবেশদ্বার ভেদ করার চেষ্টা করে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশ বাধা দেয়।
সাঈদ আল নোমান, প্রাক্তন বিএনপি উপ-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র, বড় দলের সঙ্গে অফিসে পৌঁছান। তার সঙ্গে বহু পার্টি নেতা ও সমর্থক গোষ্ঠী ছিল, যারা প্রার্থীর সঙ্গে একসাথে প্রবেশের জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
পুলিশ ও উপস্থিত সাক্ষীদের মতে, সমর্থকগণ অননুমোদিতভাবে অফিসের প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করে, ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের থামাতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে স্বল্প সময়ের তীব্রতা দেখা দেয়, তবে কোনো গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অবরোধের পর সাঈদ আল নোমান সীমিত সংখ্যক লোকের সঙ্গে অফিসে প্রবেশ করেন, আর প্রধান প্রবেশদ্বার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এই ব্যবস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের আচরণবিধির ধারা ৯(ডি) অনুযায়ী নামনির্ধারণের সময় কোনো রকম জোট বা শক্তি প্রদর্শন অনুমোদিত নয়, এবং প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারে না। এই বিধি লঙ্ঘন করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সাঈদ আল নোমান এই ঘটনাকে চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ বলে উল্লেখ করেন। “এ ধরনের ভালবাসা ও আবেগ চট্টগ্রামের ঐতিহ্য। যদিও এটি একটি অর্জন, তবু কিছুটা লজ্জাজনক,” তিনি বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি ও নির্বাচন ক্ষমতার অনুসরণ নয়, দায়িত্বের অংশ। যদি নির্বাচিত হই, তবে এই দায়িত্ব আরও বাড়বে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতার ওপর জোর দেন।
সাক্ষাৎকারের পর সাঈদ আল নোমান তার নামনির্ধারণের নথি বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিনের কাছে জমা দেন, যিনি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসারও।
নামনির্ধারণের শেষ দিনে চট্টগ্রামের ডি.সি. হিলের রিটার্নিং অফিসারদের অফিসের সামনে সকাল থেকে প্রার্থীদের দল ও সমর্থকদের ভিড় জমে। এই ভিড়ের মধ্যে বিভিন্ন পার্টির প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা শেষ মুহূর্তে কাগজপত্র সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল।
চট্টগ্রামের মোট ষোলোটি আসরের মধ্যে, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা কমিশনারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা নামনির্ধারণের প্রক্রিয়া তদারকি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে আছেন।
পুলিশের মতে, পরিস্থিতি শীতল রাখতে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। নির্বাচনী সময়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নামনির্ধারণের সময়ের উত্তেজনা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে আইনগত বিধি মেনে চলা পার্টিগুলোর সুনাম রক্ষা করবে।
নির্বাচন কমিশন এই ধরনের লঙ্ঘনের ওপর নজর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দিনে নামনির্ধারণের শেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
এই ঘটনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে পার্টি ও প্রার্থীরা আইনগত সীমার মধ্যে তাদের সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করবে, আর নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।



