গৃহমন্ত্রী উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অবসর) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ পিলখানা-তে অনুষ্ঠিত বি.জি.বি. দিবসের অনুষ্ঠানের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান যে, আসন্ন জাতীয় পার্লামেন্টারী নির্বাচনের সময় প্রায় ৩৫,০০০ সীমান্ত রক্ষী বাংলাদেশ (বি.জি.বি.) সদস্যকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মোতায়েন করা হবে।
এটি গৃহ মন্ত্রণালয়ের নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বি.জি.বি.ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়োজিত। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের মধ্যে নিয়মিত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে প্রতিদিন এক থেকে দুইটি অস্ত্র পাওয়া যায় এবং কখনো কখনো পাঁচটি বিদেশি পিস্তলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গৃহমন্ত্রী উপদেষ্টা নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন। তিনি সম্ভাব্য বোমা হামলার ঝুঁকি তুলে ধরেন এবং বলছেন যে, কিছু উগ্র গোষ্ঠী নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে, তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব।
মেঘালয় পুলিশ কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে কোনো গ্রেফতার হয়নি বলে দাবি করা প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী একটি রাতারাতি প্রকাশিত বিবৃতি উল্লেখ করে সাংবাদিকদের তা পড়তে আহ্বান জানান। তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট বিবৃতি দেখার পরামর্শ দেন।
করণীগঞ্জের মাদ্রাসা বিস্ফোরণ সংক্রান্ত তথ্যেও গৃহমন্ত্রী উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, দায়ী ব্যক্তি এখনও পলায়নরত, তবে তার সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)ও একই সময়ে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করে যে, ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজনদের পলায়ন সংক্রান্ত তথ্য তাদের গ্রেফতারকৃত সহযোদ্ধাদের স্বীকারোক্তি এবং বহু মাঠের সূত্রের ভিত্তিতে প্রাপ্ত। এই প্রকাশনা পূর্বে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে আসে, যেখানে মেঘালয় পুলিশ ও সীমান্ত সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) দাবি করেছিল যে সন্দেহভাজনদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ধরা বা তাদের সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপি উল্লেখ করে যে, ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখের সীমান্ত পারাপারকে সহায়তা করা কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের স্বীকারোক্তি থেকে নিশ্চিত হয়েছে যে অপরাধীরা সীমান্ত অতিক্রম করেছে। এই তথ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের ফলাফল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বৃহত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বি.জি.বি. সদস্যদের বৃহৎ পরিসরে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। গৃহ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি, অস্ত্র বাজেয়াপ্তি, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি এবং সীমান্ত পারাপার সংক্রান্ত তদন্তের সমন্বয় ভবিষ্যতে নির্বাচনী পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো ধরণের হুমকি বা বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়।



