19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরকারি ক্ষতিপূরণ প্যাকেজে মৃত ও আহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা দেওয়ার...

সরকারি ক্ষতিপূরণ প্যাকেজে মৃত ও আহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ ধসে ৭ জনের মৃত্যু এবং বহুজনের আঘাতের পর সরকার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ৩১ ডিসেম্বর এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ক্ষতিপূরণ প্যাকেজে মৃতের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা, আর আহতদের জন্য সর্বোচ্চ ষাট লাখ টাকা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আর্থিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবনায় ১৮ বছরের নিচের মৃত শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক কোটি টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক মৃতদের জন্য আশি লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। আহতদের ক্ষতিপূরণ তাদের আঘাতের তীব্রতা ও বয়স অনুযায়ী ভাগ করা হবে; অগ্নিদগ্ধ শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ষাট লাখ টাকা, প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সর্বোচ্চ চল্লিশ লাখ টাকা নির্ধারিত। মাঝারি আঘাতের ক্ষেত্রে শিশুর জন্য ত্রিশ লাখ টাকা, প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বিশ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। কম বা স্বল্পমেয়াদি আঘাতের ক্ষেত্রে শিশুর জন্য পনেরো লাখ টাকা, প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দশ লাখ টাকা নির্ধারিত।

দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর অগ্নিদগ্ধদের জন্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্যাকেজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পনেরো বছরের বেশি চিকিৎসা প্রয়োজনীয় গুরুতর আহতদের জন্য পনেরো লাখ টাকা, দশ বছরের জন্য নয় লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরের জন্য এক লাখ টাকা পুনর্বাসন তহবিল প্রদান করা হবে। ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্ধেক নগদ এককালীনভাবে এবং বাকি অর্ধেক পাঁচ বছরের সঞ্চয়পত্রের আকারে প্রদান করা হবে।

আহত শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ দুই কিস্তিতে বিতরণ করা হবে; প্রথম কিস্তি প্রদান হবে এবং দ্বিতীয় কিস্তি এক বছর পর দেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখা হবে, যা শিশুর বয়স পঁচিশ বছর না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে না। প্রাপ্তবয়স্ক আহতদের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য, তবে সঞ্চয়পত্র থেকে উত্তোলন পাঁচ বছর পরই সম্ভব হবে।

এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্থসরবরাহ সরকারী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে করা হবে। সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি, ভবিষ্যৎ জীবনের সম্ভাব্য বাধা এবং আঘাতের মাত্রা বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে।

বিপর্যয় ঘটার পরপরই মৃত ও আহতদের পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করে সরকারের কাছে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। পরিবারগুলোর দাবি অনুযায়ী, দ্রুত আর্থিক সহায়তা না পেলে বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। সরকারী পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নীতি স্পষ্ট হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগের পর দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান না হলে সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে এই ধরনের মানবিক সহায়তা সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে। তবে, বিরোধী দলগুলোও দাবি করে, ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের বাস্তবায়ন স্বচ্ছভাবে করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, সরকারী ক্ষতিপূরণ প্যাকেজটি মৃতের পরিবারকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত এবং আহতদেরকে সর্বোচ্চ ষাট লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যার অর্ধেক নগদ এবং বাকি অংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। এই ব্যবস্থা সরকারকে দুর্যোগের পর দ্রুত সাড়া দিতে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে এই প্যাকেজের কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং তহবিলের সঠিক ব্যবহার দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments