হাসানুল হক ইনু নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আজ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন এবং জুলাই মাসে নির্ধারিত চার্টার রেফারেন্ডাম উভয়ই তারা অংশগ্রহণ করবে না। দলটি উল্লেখ করেছে যে, এই দুইটি প্রক্রিয়া বর্তমান অস্থায়ী সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের ফল এবং তাই তারা অংশ নিতে অস্বীকার করেছে।
জেএসডি ২০০৮ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসিত সরকারগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল এবং ঐ সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তবে দলটি কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা এখনো তার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
বিবৃতিতে দলটি জোর দিয়ে বলেছে যে, যদিও জেএসডি একটি নির্বাচনী ভিত্তিক দল, তবুও তারা এই ‘অবৈধ রেফারেন্ডাম’ এবং ‘একতরফা সংসদীয় নির্বাচন’ে অংশ নেবে না, যা তারা একতরফা পরিচালিত বলে বিবেচনা করছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি দাবি করেছে যে, অস্থায়ী সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং দেশের রাজনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনকে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই প্রক্রিয়াগুলোকে ‘অবৈধ’ এবং ‘একপক্ষীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত।
দলটি আরও অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচন কমিশন অস্থায়ী সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে এবং রেফারেন্ডাম ও সংসদীয় নির্বাচনকে একটি নাটকীয় প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জেএসডি দাবি করে যে, উভয়ই রেফারেন্ডাম এবং নির্বাচন অস্থায়ী সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য আয়োজিত, যা একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক ভোটের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দলটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্থাপিত ‘চিন্তা’গুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে যে, এই রেফারেন্ডাম ও নির্বাচন সংবিধানিক গণতান্ত্রিক শাসন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে না।
অধিকন্তু, জেএসডি সতর্ক করেছে যে, এই প্রক্রিয়া ‘অবমুক্তি-সামরিক’ শক্তির প্রতিশোধমূলক রাজনীতি বৈধতা পেতে পারে, যা ধর্মীয় উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং গোষ্ঠীভিত্তিক সহিংসতা বাড়িয়ে তুলবে এবং দেশের অর্জিত সাফল্যকে ক্ষুণ্ন করবে।
বিবৃতির শেষে জেএসডি অফিস সেক্রেটারি সাজাদ হোসেনের স্বাক্ষরসহ একটি অংশে দলটি ‘ফ্যাসিস্ট’ গোষ্ঠী নির্বাচনকে ব্যাহত করতে বোমা হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তবু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সকলের সহযোগিতায় একটি মুক্ত, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী অংশগ্রহণের হার হ্রাস পেতে পারে এবং অস্থায়ী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি, অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।
অস্থায়ী সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখনো এই বিরোধিতার মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট নয়, তবে তারা নির্বাচনের সময়সূচি বজায় রাখার এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে জেএসডি’র এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান এবং আইনি কাঠামোর ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক শক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ ও সংলাপমূলক সমাধান খোঁজা জরুরি।



