বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ একদিনের বিরতির পর ২৯ ডিসেম্বর আবার শুরু হয়েছে। প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস মুখোমুখি হয়ে মাঠে নামল। টস জিতে রাইডার্স প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, ফলে ম্যাচের শুরুর দিকে শর্তগুলো তাদের পক্ষে নির্ধারিত হয়।
এই ম্যাচটি রংপুর রাইডার্সের এই মৌসুমের প্রথম উপস্থিতি, যেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালস ইতিমধ্যে প্রথম ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করে। তাই রাইডার্সের জন্য টস জিতেই কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
টসের পর রাইডার্সের ক্যাপ্টেন নুরুল হাসান সোয়াহ, যিনি উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বও পালন করছেন, বোলিংয়ে প্রথমে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিলেন। বোলারদের দলে ডেভিড মালান, তাওহিদ হৃদয়, খুশদিল শাহ এবং অভিজ্ঞ রিয়াদসহ শক্তিশালী সংযোজন রয়েছে, যা শুরুর ওভারগুলোতে রাইডার্সকে নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্ষেত্রে, প্রথম ম্যাচের জয়কে পেছনে রেখে তারা এই ম্যাচে দ্বিতীয়বার মাঠে নামল। শুরুর আগে দলটি একাদশে পরিবর্তন আনে, যদিও পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তবে এই পরিবর্তনটি ব্যাটিং অর্ডারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা যায়।
রাইডার্সের একাদশে লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোয়াহ দুজনই নাম তালিকায় রয়েছে, তবে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব ক্যাপ্টেন সোয়াহের হাতে। এই দ্বৈত উপস্থিতি ব্যাটিং গভীরতা বাড়াবে এবং শেষ ওভারে দ্রুত রান সংগ্রহে সহায়তা করবে। দলটি অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে গঠিত, যা টুর্নামেন্টের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাইডার্সের পূর্ণ দলে ডেভিড মালান, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, খুশদিল শাহ, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ, নুরুল হাসান সোয়াহ (ক্যাপ্টেন ও উইকেটকিপার), ফাহিম আশরাফ, সুফিয়ান মুকিম, আলিস আল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা অন্তর্ভুক্ত। এই সংযোজনটি ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই ভারসাম্যপূর্ণ গঠনকে নির্দেশ করে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের দলে মির্জা বেগ, নাঈম শেখ, মাহফিজুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, শেখ মেহেদী হাসান, ক্যাপ্টেন, আবু হায়দার রনি, অ্যাডাম রসিংটন, উইকেটকিপার, তানভীর ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং মাসুদ গুরবাজ রয়েছেন। এই তালিকায় অভিজ্ঞ বিদেশি খেলোয়াড় অ্যাডাম রসিংটনের উপস্থিতি দলের বোলিং শক্তিকে বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা যায়।
ক্যাপ্টেন সোয়াহ টসের পরে বললেন, “বোলিংয়ে প্রথমে প্রবেশ করে শর্তগুলো আমাদের পক্ষে গড়ে তোলা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।” তার এই মন্তব্য দলীয় কৌশলের স্পষ্ট দিক নির্দেশ করে এবং মাঠে দ্রুত প্রভাব ফেলতে চাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
দুই দলের কোচও ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। রাইডার্সের কোচ দলকে “সামনের ওভারগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে রিদম গড়ে তোলার” পরামর্শ দেন, আর রয়্যালসের কোচ “প্রথম ম্যাচের জয়কে চালিয়ে গিয়ে ব্যাটিং অর্ডারকে শক্তিশালী করার” পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
পরবর্তী ম্যাচে রাইডার্সের মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামো, আর চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরের প্রতিপক্ষ হবে সিলেট স্টারস। উভয় দলই শীর্ষে থাকার জন্য ধারাবাহিক জয় সংগ্রহের লক্ষ্যে কাজ করবে।
সারসংক্ষেপে, টস জিতে রাইডার্সের ফিল্ডিং সিদ্ধান্ত এই মৌসুমের শুরুর দিকে তাদের কৌশলগত সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছে। উভয় দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়ের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যা আগামী ম্যাচগুলোতে কীভাবে ফলাফল দেবে তা দেখার অপেক্ষা রয়ে গেছে।



