পোর্টুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডস-এ সেরা মধ্যপ্রাচ্য খেলোয়াড়ের উপাধি অর্জন করে দুবাইতে তার উল্লাস প্রকাশ করেছেন। পুরস্কারটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রোনালদোর পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ এখনও তীব্র এবং তিনি ১,০০০ ক্যারিয়ার গোলের লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রোনালদো গত শনিবার সৌদি আরবের আল-নাস্সর ক্লাবের হয়ে দু’টি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই ম্যাচে তার দুই গোলের ফলে তার মোট গোলসংখ্যা ৯৫৬-এ পৌঁছায়, যা ক্লাব ও জাতীয় দলের সব প্রতিযোগিতার সমষ্টি। এই অর্জন তাকে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় পুনরায় শীর্ষে রাখে।
৪০ বছর বয়সের রোনালদো এখনো সক্রিয়ভাবে মাঠে উপস্থিত এবং তিনি এক বা দুই বছর আরও খেলতে ইচ্ছুক। তার শারীরিক অবস্থা যদিও বয়সের সঙ্গে কিছুটা পরিবর্তিত, তবু তিনি বলের প্রতি তার আগ্রহ ও প্রতিযোগিতার চেতনা বজায় রেখেছেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও কয়েকটি মৌসুমে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছেন, যাতে তার গোলের সংখ্যা ১,০০০‑এর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
পুরস্কার গ্রহণের পর রোনালদো তার প্রেরণার কথা শেয়ার করেন, “খেলতে চালিয়ে যাওয়া কঠিন, তবে আমি এখনও উদ্দীপ্ত।” তিনি যোগ করেন, তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ কখনো কমেনি এবং তিনি যে কোনো লিগে খেললেও আনন্দ পান। মধ্যপ্রাচ্য হোক বা ইউরোপ, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল মাঠে পা রাখা এবং গোল করা।
রোনালদোর লক্ষ্য স্পষ্ট: তিনি টুর্নামেন্টে ট্রফি জিততে চান এবং ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বড় আঘাত না হলে এই সংখ্যা অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তার মতে, শারীরিক সুস্থতা এবং ধারাবাহিক প্রশিক্ষণই এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি।
রোনালদোর এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা কাজ করছে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব থেকে শুরু করে এখন আল-নাস্সরে তার পারফরম্যান্স সবসময়ই উচ্চ মানের। তিনি বলের মধ্যে যে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখেন, তা তাকে প্রতিপক্ষের ওপর অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।
আসন্ন মৌসুমে রোনালদো আল-নাস্সরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, যেখানে তিনি দলের আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তার উপস্থিতি শুধু দলের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য ফুটবলের জন্যও উজ্জ্বল উদাহরণ।
রোনালদোর এই উল্লাস এবং লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছা তার ভক্তদের মধ্যে নতুন উদ্যম জাগিয়ে তুলেছে। তিনি যে কোনো সময়ে মাঠে ফিরে এসে গোল করতে প্রস্তুত, তা তার ফুটবলের প্রতি অটুট ভালোবাসার প্রমাণ। ভবিষ্যতে তিনি যদি ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তা ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হবে।



