সুপ্রিম কোর্ট আজ একটি আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন একটি পদক্ষেপ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (CIB) তালিকায় ঋণ ডিফল্টার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই রায় মান্নার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি বাধা সরিয়ে দেয়।
আদালতের চেম্বার বিচারক, আপিল বিভাগে বিচারক মোঃ রেজাউল হক, একই সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের একটি আদেশকে স্থগিত করেন, যা মান্নার দ্বারা দায়ের করা রিট পিটিশন প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেই পিটিশনে মান্না ব্যাংকের কাছে তার নাম CIB তালিকা থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ চেয়েছিলেন।
মান্নার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বারুয়া আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর প্রকাশ করেন যে, এখন তিনি ইলেকশন কমিশনে নাম লেখাতে এবং পার্লামেন্টের আসন জন্য প্রার্থী হিসেবে দাখিল করতে কোনো আইনি বাধা সম্মুখীন হবেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারকের আদেশ মান্নার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এই রায়ের পেছনে মান্না নিজে দায়ের করা এক পিটিশন ছিল, যেখানে তিনি ব্যাংকের বিরুদ্ধে তার নাম CIB তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলেন। আদালত তার পিটিশন গ্রহণ করে, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করার আদেশ দেয়।
প্রতিবাদী পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিরুল ইসলাম সুমন উপস্থিত ছিলেন, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুল কায়ুম আদালতে যুক্ত ছিলেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি ও তর্কের পরই সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারক এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মান্না, যিনি নাগরিক ঐক্যের সভাপতি এবং দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, এখন স্বাধীনভাবে তার প্রার্থিতার নথি ইলেকশন কমিশনে জমা দিতে পারবেন। তার রাজনৈতিক দলও এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আসন্ন পার্লামেন্টারী নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থীদের নাম লেখার শেষ তারিখ নিকটবর্তী। মান্নার জন্য এই আইনি বাধা দূর হওয়া তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে তার দল নাগরিক ঐক্যের জন্য নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকের ক্রেডিট তথ্য সংক্রান্ত নীতিমালার পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধ এড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অবশেষে, মান্না এবং তার দল এখন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তারা ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, এবং এই রায়ের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



