হিন্দি-ইংরেজি মিশ্র ভাষায় সিভাজি যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, তা নিয়ে রাম গোপাল বর্মা আবারও সামাজিক মাধ্যমে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। সিভাজি সম্প্রতি ‘ধান্ডোরা’ প্রি-রিলিজ ইভেন্টে নারীর পোশাক নিয়ে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। বর্মা, যিনি পূর্বে সিভাজির আচরণকে ‘অশোভন’ বলে সমালোচনা করেছিলেন, এবার প্রভাসের নতুন ছবির ‘দ্যা রাজা স্যাব’ প্রি-রিলিজ ইভেন্টে উপস্থিত তিনজন নারী অভিনেত্রীর পোশাকের স্বাধীনতা তুলে ধরেছেন।
ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন নিধি আগেরওয়াল, মালভিকা মোহনন এবং রিদ্ধি কুমার। বর্মা তার টুইটারে প্রভাসের সঙ্গে ত্রয়ীর সেলফি ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, “তিনজন হিরোইন কোনো নৈতিক নিন্দার ভয় পেয়েছেন না, তারা তাদের ইচ্ছামতো পোশাক পরেছেন। এমন ভিলেনদের মুখে কঠিন চিৎকার।” তিনি উল্লেখ করেন, নিধি আগেরওয়াল ধূসর সাড়ি, রিদ্ধি কুমার সাদা সাড়ি এবং মালভিকা মোহনন শিমারি কালো লেহেঙ্গা পরিধান করেন।
সিভাজির মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল নারীর পোশাকের ‘শালীনতা’ নিয়ে তার তীব্র সমালোচনা। তিনি বক্তৃতায় ‘দরিদ্রাপু ম***া’ এবং ‘সামান’ শব্দ ব্যবহার করে নারীর শারীরিক গঠনকে অবমাননাকরভাবে উল্লেখ করেন। এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে তিনি নারীর পোশাকের ভিত্তিতে তাদের চরিত্র নির্ধারণের ধারণা প্রকাশ করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা পায়। সিভাজি পরে তার টুইটারে স্বীকার করেন যে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে দুইটি ‘অশোভন’ শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
বর্মা, যিনি চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের বিশ্লেষক, এই ঘটনার পর আবারও সিভাজির আচরণকে ‘মোরাল পলিসিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইভেন্টে উপস্থিত নারী অভিনেত্রীরা কোনো নৈতিক বাধা অনুভব করেননি এবং নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরিধান করে নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেছেন। বর্মা এই মন্তব্যের মাধ্যমে শিল্পের মধ্যে নারীর পোশাক সংক্রান্ত সামাজিক চাপের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন।
‘দ্যা রাজা স্যাব’ ইভেন্টটি হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে প্রভাসের পাশাপাশি বহু পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীর উপস্থিতি ছিল। ইভেন্টের সময় সিভাজি যে মন্তব্য করেন, তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিন্দা পায়। তার মন্তব্যের পর তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্ষমা চেয়ে দু’দিনের মধ্যে পোস্টটি মুছে ফেলেন।
বর্মা এই ইভেন্টের ছবি টুইটারে শেয়ার করে উল্লেখ করেন, “তিনজন হিরোইন কোনো নৈতিক নিন্দার ভয় পেয়েছেন না, তারা তাদের ইচ্ছামতো পোশাক পরেছেন। এমন ভিলেনদের মুখে কঠিন চিৎকার।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই তিনজন হিরোইনকে টুপি পরিয়ে ধন্যবাদ জানাই, যারা সামাজিক নৈতিকতা আরোপের বদলে নিজের পছন্দের পোশাক পরিধান করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন।”
সিভাজির মন্তব্যের ফলে শিল্প জগতে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। বেশ কয়েকজন শিল্পী ও সমালোচক এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, নারীর পোশাকের পছন্দকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হিসেবে গণ্য করা উচিত এবং কোনো নৈতিক নিন্দা আরোপ করা উচিত নয়। বর্মার মন্তব্য এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইভেন্টে উপস্থিত নারীর পোশাকের বিবরণে দেখা যায়, মালভিকা মোহনন শিমারি কালো লেহেঙ্গা পরিধান করে, যা তার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে। রিদ্ধি কুমার সাদা সাড়ি পরিধান করে ঐতিহ্যবাহী শৈলীর সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ দেখিয়েছেন। নিধি আগেরওয়াল ধূসর সাড়ি পরিধান করে সাদামাটা কিন্তু মার্জিত চেহারা উপস্থাপন করেছেন। এই সবই ইভেন্টের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিভাজির মন্তব্যের পর তিনি টুইটারে ক্ষমা চেয়ে দু’দিনের মধ্যে পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং উল্লেখ করেন, “আমি অনিচ্ছাকৃতভাবে দু’টি অশোভন শব্দ ব্যবহার করেছি, দুঃখিত।” তবে তার এই ক্ষমা স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত থাকে।
বর্মা, যিনি পূর্বে সিভাজির আচরণকে ‘অশোভন’ বলে সমালোচনা করেছেন, আবারও এই ইভেন্টে নারীর স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তিনি ইভেন্টে উপস্থিত নারীর পোশাকের পছন্দকে ‘মোরাল পলিসিং’ এর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখেন। এই মন্তব্য শিল্পের মধ্যে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার একটি নতুন দিক উন্মোচন করে।
সর্বোপরি, রাম গোপাল বর্মার টুইট এবং সিভাজির ক্ষমা চাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ দুটোই শিল্প জগতে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা ও নৈতিক নিন্দার বিরোধিতা নিয়ে একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে নারীর অধিকার সংরক্ষণে আরও সচেতনতা ও সমর্থন বাড়াতে পারে।



