নিউ জার্সির আটলান্টিক কাউন্টির হামোন্টন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের আকাশে রবিবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে দুইটি হেলিকপ্টার মুখোমুখি ধাক্কা খায়। সংঘর্ষে এন্সট্রম এফ‑২৮এ এবং এন্সট্রম ২৮০সি মডেলের দুটি যন্ত্রে প্রত্যেকটিতে একজন পাইলট ছিলেন। ধাক্কা লাগার পর এক হেলিকপ্টার দ্রুত ঘুরে মাটিতে আছড়ে পড়ে, অন্যটি বিধ্বস্ত অবস্থায় রইল।
আঘাতপ্রাপ্ত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যে একটির পাইলট ঘটনাস্থলেই মারা যান, আর অন্য পাইলটকে গুরুতর আঘাতের শঙ্কা নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হেলিকপ্টারগুলোর একটিতে আগুন ধরলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তা দ্রুত নিভিয়ে দেন।
হামোন্টন পুলিশ প্রধান কেভিন ফ্রিল জানান, দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি সেবা, পুলিশ ও ফায়ার ফোর্সের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আহত পাইলটকে উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং বিমানবন্দরের সাধারণ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামোন্টন শহরটি ফিলাডেলফিয়া থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং কৃষি ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। বিমানবন্দরের আশেপাশে আকাশ পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও দুই হেলিকপ্টার কীভাবে একই সময়ে একই পথে চলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশনা অনুসরণে কোনো বিচ্যুতি হয়েছে কিনা তা বিশ্লেষণ করছেন।
বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক যোগাযোগের রেকর্ড পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তে এই দিকটিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। এছাড়া, হেলিকপ্টারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণ ইতিহাসও তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হবে।
এই ধরনের আকাশে সংঘর্ষের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম নয়; গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে সামরিক হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। তবে হামোন্টন ঘটনার মতো দু’টি বেসামরিক হেলিকপ্টার একসাথে ধাক্কা খাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল।
অনুসন্ধান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিমানবন্দরের কর্মীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এফএএ ও এনটিএসবি উভয় সংস্থা ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্তের ফলাফল যদি যান্ত্রিক ত্রুটি বা মানবিক ভুলের দিকে ইঙ্গিত করে, তবে সংশ্লিষ্ট হেলিকপ্টার নির্মাতা ও অপারেটরকে সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, যদি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ত্রুটি প্রকাশ পায়, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি নীতি পরিবর্তন বা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে।
এই মুহূর্তে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা সম্পর্কিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবে এফএএ ও এনটিএসবি দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
হামোন্টন এয়ারপোর্টের সাময়িক বন্ধের ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও যাত্রী চলাচলে প্রভাব পড়েছে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।



