বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, সিলেট থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন চালু করবেন। তিনি সিলেট সফরের সময় হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারে জিয়ারত করবেন এবং তার শ্বশুরবাড়ি অবস্থিত এই শহরে তিন দিনব্যাপী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে ক্যাম্পেইন শুরু করার মাধ্যমে দল তার নির্বাচনী শক্তি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। তারেকের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া, যা সিলেটের কাছাকাছি, সেখানে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নেবেন। এই সফরটি তার ১৭ বছর পর দেশে ফেরার তৃতীয় দিন, যা রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম দপ্তরিক বৈঠকের পর নির্ধারিত হয়।
সিলেট সফরের সময় তারেক রহমান হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরাণের মাজারে জিয়ারত করবেন, যা স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক সমর্থনকে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাজারে জিয়ারত করার পাশাপাশি তিনি শিলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক স্থানে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে মতবিনিময় করবেন। শ্বশুরবাড়ি সিলেটে অবস্থিত হওয়ায় তারেকের এই সফরকে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দু’দিক থেকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া, তারেকের নির্বাচনী এলাকা, সিলেট সফরের পরপরই তার পরবর্তী গন্তব্য হবে। দলীয় সূত্র অনুযায়ী তিনি বগুড়ায় তিন দিনের জন্য অবস্থান করবেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সমাবেশ, জনসম্মুখে বক্তৃতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের মূল বার্তা পৌঁছে দেবেন। বগুড়ার নির্বাচনী ঘাঁটি হিসেবে তারেকের উপস্থিতি পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেকের প্রথম দপ্তরিক দিন গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বসে ক্যাম্পেইনের সূচি, কৌশল এবং নির্বাচনী অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচনা করেন। এই বৈঠকে সিলেট ও বগুড়া সফরের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপি বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সময়সূচি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সরকার ঘোষিত হয়েছে। দলীয় নেতারা উল্লেখ করেছেন যে সিলেট থেকে ক্যাম্পেইন শুরু করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলটি পার্টির ঐতিহাসিক সমর্থনভিত্তি গড়ে তুলেছে। এছাড়া, সিলেটের ধর্মীয় মাজারে জিয়ারত করা ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি ইতিবাচক ধারণা জাগাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত প্রতিপক্ষের ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিতে থাকে এবং নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করে। তাই, সিলেট ও বগুড়া সফরের পরবর্তী দিনগুলোতে অন্যান্য দলও তাদের নিজস্ব প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যতে তারেকের ক্যাম্পেইন কীভাবে এগোবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সিলেট ও বগুড়া সফরকে ভিত্তি করে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে উপস্থিতি বজায় রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে পার্টি তার প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়িয়ে তুলবে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবে। এই ধারাবাহিকতা এবং পরিকল্পিত সফরগুলো পার্টির ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক সফরটি দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন ভোটাররা নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তাই, আসন্ন সপ্তাহগুলোতে সিলেট ও বগুড়ার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেলায়ও ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।



