গালকায়ো শহরে নভেম্বর মাসে ১৪ বছর বয়সী অনাথ শিশুর হত্যা ঘটার পর, দায়ী হিসেবে ধরা ৩৪ বছর বয়সী হোদান মোহামুদ দিরিয়েরকে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ের পর তিনি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন, আর তার আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন।
শিশুটি, সাঈবিরিন সাইলান, এক বছর বয়সে তার পিতামাতা দুজনেরই মৃত্যুর পর অনাথ হয়ে গিয়েছিল। তার দুজন দাদীও অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাওয়ায়, তার মা’র চাচী তাকে লালন-পালন করতেন এবং কুরআন শিক্ষা সহ সাধারণ শিক্ষা প্রদান করতেন।
সেপ্টেম্বর মাসে, সাঈবিরিনের চাচী তার চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে চুক্তি করেন, যাদের বাড়িতে কাজের জন্য সাহায্য দরকার ছিল। ফলে শিশুটি দিরিয়ের পরিবারের বাড়িতে দুই মাসেরও বেশি সময় বসবাস করে।
পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়, এই দুই মাসের সময়ে শিশুটির ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। তাকে মারধর, চাবুক এবং অন্যান্য শারীরিক আঘাতের শিকার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
দিরিয়েরের মোবাইল ফোন থেকে প্রাপ্ত ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিংয়ে নির্যাতনের দৃশ্য ধরা পড়ে। এই রেকর্ডিংগুলোর কিছু আদালতের আগে জনসাধারণের কাছে প্রকাশিত হয়, তবে সেগুলোকে কে লিক করেছে তা এখনও অজানা।
একটি রেকর্ডিংয়ে দিরিয়েরের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যেখানে তিনি শিশুর কষ্টে আনন্দ প্রকাশ করছেন। এই ধরনের মন্তব্যের ফলে সমাজে ব্যাপক নিন্দা ও শক সৃষ্টি হয়।
শিশুর দেহে করা পোস্ট-মর্টেম পরীক্ষা বহু আঘাত ও গভীর কাটার চিহ্ন প্রকাশ করে, যা নির্যাতনের মাত্রা স্পষ্ট করে। এই ফলাফলগুলো আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
আদালত দিরিয়েরকে হত্যার দোষী সাব্যস্ত করে, মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড দেয়। তিনি রায়ের বিরোধিতা করে আপিল দায়ের করেছেন, তবে আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
দিরিয়েরের স্বামী, ৬৫ বছর বয়সী আব্দিয়াজিজ নর, হত্যার দোষে দোষী না পাওয়া সত্ত্বেও অবহেলার জন্য এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০০ ডলার (প্রায় ৩৭৫ পাউন্ড) জরিমানা করা হয়েছে।
সাঈবিরিনের মৃত্যুর পর গালকায়োর তার বাড়ির আশেপাশে প্রতিবাদী দল গঠন করে, যেখানে শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়। স্থানীয় নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও একই সঙ্গে সমর্থন জানায়।
এই মামলা দেশের শিশু নির্যাতনের সমস্যাকে নতুন করে উন্মোচিত করেছে, বিশেষ করে যখন নির্যাতন পরিবারিক পরিবেশে ঘটে এবং প্রায়শই রিপোর্ট করা হয় না। দিরিয়েরের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে শিশু সুরক্ষার আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে দিরিয়েরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে আপিলের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে, আর তার স্বামীর শাস্তি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই ঘটনার পর সরকার ও বিচার বিভাগে শিশু সুরক্ষার নীতি পুনর্বিবেচনা ও বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়ছে।



