হলিউডের ‘স্ক্রিম কুইন’ জেমি লি কার্টিস সম্প্রতি ড্রু ব্যারিমোর শোতে প্রকাশ করেছেন যে, তার মা জ্যানেট লেইল তারকে শৈশবে ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ ছবির অডিশন থেকে বিরত রেখেছিলেন। প্রযোজক যখন ১৯৭০‑এর দশকের শুরুর দিকে তার মা-কে ফোন করে জেমির অডিশন চেয়েছিলেন, তখন জ্যানেট লেইল স্পষ্টভাবে ‘না’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রযোজকের কথামতো, তিনি জেমি যখন প্রায় বারো বছর বয়সের, তখনই তার সম্ভাবনা দেখেছিলেন এবং তাকে অডিশনের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে জ্যানেট লেইল, যিনি নিজেও চলচ্চিত্র জগতে বিশাল নাম, তার কন্যার শৈশব রক্ষা করার জন্য এই সুযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ছোটবেলায় ভয়াবহ থ্রিলার ছবিতে কাজ করা শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জেমি তখনই বলেছিলেন, তিনি তখন কিশোরী বয়সের, চঞ্চল এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসী, যা প্রযোজকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে তার মা‑এর দৃঢ় সিদ্ধান্তে তিনি অডিশন থেকে বাদ পড়েন। এই ঘটনার ফলে ‘দ্য এক্সরসিস্ট’ ছবিতে শেষ পর্যন্ত লিন্ডা ব্লেয়ারকে রেগান চরিত্রে নির্বাচন করা হয়।
মা‑বাবার এই সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ জেমির জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার মা‑এর ইচ্ছা ছিল যে, জেমি যেন স্বাভাবিক শৈশবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, যা তার নিজের ক্যারিয়ারে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেমি এই কথায় জোর দেন যে, তার মা‑এর এই সিদ্ধান্ত তাকে ভবিষ্যতে সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগের জন্য প্রস্তুত করেছে।
ড্রু ব্যারিমোর শোতে জেমি ব্যাখ্যা করেন, ড্রু নিজে মাত্র সাত বছর বয়সে ‘ইটি দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’ ছবিতে অভিনয় করে তার প্রথম বড় স্ক্রিন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই তুলনা জেমির মা‑এর সিদ্ধান্তের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। যদিও ড্রু শৈশবে সফল হয়েছেন, জেমি তার মা‑এর ইচ্ছা অনুযায়ী শৈশবের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে পেরেছেন।
বছরের পর বছর পর, জেমি ১৯ বছর বয়সে ‘হ্যালোইন’ ছবিতে লরি স্টোর্ডের ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন, যা তাকে হরর জঁরে চিরস্থায়ী আইকন করে তুলেছিল। এই ভূমিকা তার হরর ক্যারিয়ারের সূচনা চিহ্নিত করে এবং পরবর্তীতে তিনি একই ধারার বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
‘হ্যালোইন’ সিরিজের পাশাপাশি জেমি ‘দ্য ফ্রগ’, ‘প্রোম নাইট’, ‘টেরর ট্রেন’ এবং ‘রোড গেমস’ সহ বিভিন্ন হরর প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। এসব ছবিতে তার পারফরম্যান্স দর্শকদের মধ্যে ভয় এবং উত্তেজনার মিশ্র অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে, যা তাকে ‘স্ক্রিম কুইন’ উপাধি অর্জনে সহায়তা করেছে।
জেমি লি কার্টিসের মতে, তার মা‑এর সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত তাকে শৈশবের স্বাভাবিকতা উপভোগের সুযোগ দিয়েছে এবং পরবর্তীতে হরর জঁরে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ভিত্তি স্থাপন করেছে। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ শিল্পীদের জন্যও প্রেরণাদায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জেমি লি কার্টিসের মা‑এর সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ তাকে শৈশবে ভয়াবহ থ্রিলার ছবিতে কাজ করা থেকে রক্ষা করেছে, ফলে তিনি পরবর্তীতে সঠিক সময়ে হরর জঁরে নিজের ছাপ রেখে গেছেন। এই গল্পটি শিল্পজীবনে পারিবারিক সমর্থনের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে এবং হরর জঁরের ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়ে গেছে।



