বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বগুড়া‑৭, দিনাজপুর‑৩ এবং ফেনি‑১ আসনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করলেও, আজ শেষ দিন হওয়ায় তার পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থীর নাম জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে, তিনি ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি, যা দলের জন্য একটি সংকটপূর্ণ মুহূর্ত।
খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যেখানে তিনি শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে তীব্র পর্যবেক্ষণে আছেন। তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে দলীয় কর্মীরা সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
বিএনপি দল মাঠপর্যায়ের জরিপ, অসন্তোষ ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করে তিনটি আসনে বিকল্প প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। ফেনি‑১ (ফুলগাজী‑পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে রফিকুল আলম (মজনু) নামের নির্বাচনী সমন্বয়ককে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বগুড়া‑৭ (গাবতলী) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রাক্তন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর‑৩ (সদর) আসনে প্রাক্তন পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মোরশেদ আলম ও জাহাঙ্গীর আলম উভয়ই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে নিজ নিজ আসনের জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন এবং চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর তা জমা দেবেন। রফিকুল আলমের ক্ষেত্রে, যদি খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, তবে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীকে মুখোমুখি হবেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম‑১৪ (চন্দনাইশ‑সাতকানিয়া) আসনটি পূর্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ওলির পুত্র ওমর ফারুকের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছিল; তবে ওলির দল সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ‑৫ আসনে প্রথমে ব্যবসায়ী মো. মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশের পর, স্থানীয় বিএনপি শাখার প্রাক্তন সভাপতি আবুল কালামকে নতুন প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন ঘটেছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম‑৬ (রাউজান) আসনও অন্তর্ভুক্ত। এসব পরিবর্তন দলীয় কৌশলগত সমন্বয়ের অংশ হিসেবে করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রান্তিকতা বাড়ানো যায়।
বিএনপি সূত্র অনুযায়ী, মাঠে সংগৃহীত তথ্য, স্থানীয় অসন্তোষ এবং জোটের রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করে এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করা। দলটি বিশ্বাস করে যে বিকল্প প্রার্থীদের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং নির্বাচনী ফলাফলকে নিজের পক্ষে মোড়ানো যাবে।
আজ মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, তাই সব প্রার্থীর পত্র সময়মতো নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাতে হবে। বিকল্প প্রার্থীদের নাম ও পত্র জমা হওয়ার পর, দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রচারণা চালু করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
এই পরিবর্তনগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি বিকল্প প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জন করতে পারেন, তবে বিএনপি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জনের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং তার সরাসরি অংশগ্রহণের অনুপস্থিতি দলকে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে বাধ্য করবে।



