অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড, সতীর্থের চোটের পর সুযোগ নিয়ে, এই সিরিজের সব চারটি টেস্টে ওপেনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি আটটি ইনিংসের মধ্যে সাতটি ওপেনিংয়ে খেলেছেন এবং দলের শীর্ষস্থানীয় স্কোরার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।
হেডের ওপেনিং পারফরম্যান্সে বিশেষ দৃষ্টান্ত দেখা গেছে অ্যাডিলেডের তৃতীয় টেস্টে, যেখানে তিনি ১৭০ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়াকে ৮২ রানে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মেলবোর্নে দুই দিনের ম্যাচে হেডের ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ রান বেরিয়ে দলকে সমর্থন করে, যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হারে যায়। সিরিজের মোট রান ৪৩৭-এ হেডের অবদান সর্বোচ্চ, যা তাকে দলের শীর্ষ স্কোরার করে তুলেছে।
প্রথম টেস্টে মূল ওপেনার উসমান খাওয়াজা পিঠের জড়তার কারণে খেলতে পারেননি, ফলে হেডকে ওপেনার হিসেবে পাঠানো হয়। প্রথম ইনিংসে মার্নাস লাবুশেনও ভালো শুরুর সুযোগ পাননি, তবে হেডের এক সেঞ্চুরি দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেয়। এরপর থেকে হেড জ্যাক ওয়েডেল্ডের সঙ্গে ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা দলকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী শুরুর সুযোগ দেয়।
ব্রিজবেনের গোলাপি বলের টেস্টে হেড ৭২ রান সংগ্রহ করেন, আর পরের ইনিংসে ১৪৬ রান যোগ করে তার রেকর্ডকে আরও মজবুত করেন। এই দুই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি টেস্টে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, যদিও এখনো তিনশো রান না করলেও তার ধারাবাহিকতা প্রশংসনীয়। ৩১ বছর বয়সী ওয়েডেল্ডের সঙ্গে ভবিষ্যৎ টেস্টে হেড আবারও ওপেনার হিসেবে একসাথে খেলতে চান।
হেডের মতে, ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করা তাকে আনন্দ দিচ্ছে এবং তিনি এই পজিশনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলকে বিভিন্নভাবে অবদান রাখতে পারা তার জন্য গর্বের বিষয়। এছাড়া, তিনি ওয়েডেল্ডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন, বলছেন প্রথম চারটি টেস্টে ওয়েডেল্ডের পারফরম্যান্সে তার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে।
সিডনিতে আগামী রবিবার ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট শুরু হবে, যেখানে হেড এবং ওয়েডেল্ডের ওপেনিং পার্টনারশিপ আবারও পরীক্ষা হবে। এই ম্যাচটি সিরিজের চূড়ান্ত রাউন্ড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং হেডের ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট পরিকল্পনার মূল অংশ হিসেবে রয়ে যাবে।



