ব্রিটেনের এক প্রাক্তন রিয়ালিটি শো তারকা রায়ান লিবি, প্রথম সন্তান লিওর জন্মের সময় পারিবারিক সংকটে পড়েন। তার সঙ্গী লুইসের গর্ভধারণের শেষ পর্যায়ে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় রায়ানকে একসঙ্গে মা ও বাবার দায়িত্ব নিতে হয়। এই পরিস্থিতি তাকে নতুন পিতার ভূমিকা সম্পর্কে অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা দেখিয়ে দেয়।
লুইসের জরুরি অপারেশন ও পোস্ট‑পার্টাম কম্প্লিকেশন শেষ হওয়ার পর রায়ান রাতের বেলা নরমাল পরিবর্তন, দুধ খাওয়ানো ও হাঁটাচলা সহ সব কাজ নিজে করে। তিনি একসঙ্গে মা ও শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রধান সেবাকর্মী হিসেবে গড়ে তোলেন। এই অতিরিক্ত দায়িত্বের ফলে তার শারীরিক ও মানসিক শক্তি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।
প্রায় এক বছর, অর্থাৎ ১১ মাসের ধারাবাহিক কাজের পর রায়ান সম্পূর্ণভাবে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত চাপ এবং একাকিত্বের অনুভূতি তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলেছিল। এমন অবস্থায় তিনি নিজের সমস্যাকে স্বীকার করতে পারেননি এবং সহায়তা চাওয়ার কথা ভাবতে পারেননি।
একটি পার্কের বেঞ্চে তার নিজের পিতার সঙ্গে আলাপের সময় রায়ানকে তার পিতার সরল কথাগুলো শোনাতে পান: “তুমি এখন ভালো অবস্থানে নেই, তোমার সাহায্যের প্রয়োজন। আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” এই কথাগুলো রায়ানকে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে সহায়তা চাওয়ার দরকারি মুহূর্তে পৌঁছে দেয়। পিতার এই সমর্থন তার জন্য মানসিক স্বস্তি ও পুনরুদ্ধারের প্রথম সোপান হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পুরুষ স্বাস্থ্য কৌশল অনুযায়ী, সন্তান জন্মের আগে ও পরে ৫‑১৫% পিতা উদ্বেগের শিকার হন এবং ৫‑১০% পিতা ডিপ্রেশন অনুভব করেন। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে পিতাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও বাস্তবে ব্যাপক।
রায়ান উল্লেখ করেন যে পুরুষরা প্রায়শই সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী “দৃঢ় ও অটল” থাকার চাপ অনুভব করেন। তারা নিজেদেরকে পরিবারে এক ধরনের “দুর্গের প্রাচীর” হিসেবে দেখেন, যা ভেঙে না গিয়ে সবসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এই মানসিকতা মানসিক সাহায্য চাওয়াকে দুর্বলতার চিহ্ন হিসেবে গন্য করে, ফলে অনেক পিতা সহায়তা নিতে দ্বিধা করে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিল ডোমোনি জানান, পিতারা প্রায়শই নিজের সমস্যাকে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক থাকেন, কারণ তারা মনে করেন মা ও শিশুর যত্নের আগে তাদের নিজস্ব চাহিদা অগ্রগণ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পিতার মানসিক সুস্থতা পুরো পরিবারের সমন্বিত স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রায়ান তার পিতার পরামর্শ মেনে কয়েক দিনের জন্য বিদেশে ভ্রমণ করেন, যাতে মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পারেন। এই বিরতি তাকে পুনরায় শক্তি সংগ্রহের সুযোগ দেয় এবং পরিবারে তার ভূমিকা পুনর্নির্ধারণে সহায়তা করে। তিনি এখন নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সময়ে সহায়তা চাওয়ার গুরুত্ব স্বীকার করেন।
নতুন পিতাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, মানসিক ক্লান্তি বা উদ্বেগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরিবার, বন্ধু বা পেশাদার পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলা উচিত। পাশাপাশি, পিতাদের জন্য সমর্থন গোষ্ঠী ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। আপনার সন্তান জন্মের পর যদি অতিরিক্ত চাপ অনুভব করেন, তবে সাহায্য চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং পরিবারের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ।



