22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর শিবিরে

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর শিবিরে

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ক্রিসমাস রাত্রে (২৫ ডিসেম্বর) পরিচালিত আকাশ হামলা, নাইজেরিয়ার সোকোতো রাজ্যের টাঙ্গাজা সীমান্তে অবস্থিত লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর শিবিরকে লক্ষ্য করে। এই আক্রমণে গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয় এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্রের বড় অংশ ধ্বংস হয়।

লাকুরাওয়া গোষ্ঠী হল একটি সুসজ্জিত জিহাদী দল, যাদের সদস্যরা ক্যামোফ্লাজে পোশাক পরিধান করে এবং রঙিন পাগড়ি পরিধান করে। তারা বহু বছর ধরে টাঙ্গাজা অঞ্চলে, নাইজেরিয়া ও নাইজার সীমান্তের কাছাকাছি, শিবির স্থাপন করে কাজ করে আসছে।

গোষ্ঠীর মূল সদস্যরা সাহেল অঞ্চলের উত্তরে, বিশেষ করে নাইজার ও মালির সীমান্তের কাছাকাছি থেকে আসা বলে জানা যায়। তারা স্থানীয়ভাবে লাকুরাওয়া নামে পরিচিত এবং তাদের উপস্থিতি বহু বছর ধরে এই শুষ্ক সমভূমি ও পাহাড়ি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

টাঙ্গাজার বেশিরভাগ বাসিন্দা মধ্যম মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যারা গোষ্ঠীর উত্স নাইজার ও মালি থেকে হওয়ার কথা জানে এবং তাদের উপস্থিতি নিয়ে গভীর ভয় অনুভব করে। স্থানীয়রা জানায়, লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর উপস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া উভয় সরকারই গোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্লামিক স্টেট (আইএস) সােহেল শাখার সংযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও আইএস নিজে পর্যন্ত লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বীকার করেনি। এই সংযোগের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিবিসি টিম নুকুরু গ্রাম (টাঙ্গাজা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার) পরিদর্শন করে, যেখানে বেশিরভাগ বাসিন্দা গোষ্ঠী সম্পর্কে কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। গোপনীয়তা নিশ্চিত করার পরই কয়েকজন স্থানীয় নীরব স্বরে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

সংবাদদলটি শনিবার পুলিশ রক্ষার সঙ্গে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রবেশ করে। স্থানীয় পুলিশ সাধারণত এই এলাকায় প্রবেশ করে না, কারণ তাদের কাছে যথেষ্ট শস্ত্রশক্তি নেই যা গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে ব্যবহার করা যায়।

সিকিউরিটি টিমকে আক্রমণস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয় চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, এবং তারা দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান না করার নির্দেশ পায়, যাতে গোষ্ঠী তাদের প্রত্যাবর্তন পথে মাইন বসাতে না পারে।

একজন কৃষক, যিনি নুকুরু গ্রামের নিকটে বসবাস করেন, জানান যে হামলার পরপরই কিছু পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠীর সদস্য তার গ্রামে প্রবেশ করে। “প্রায় পনেরোটি মোটরসাইকেল নিয়ে তারা এলো,” তিনি বলেন, যা স্থানীয় নিরাপত্তা উদ্বেগকে বাড়িয়ে দেয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণ লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে গোষ্ঠীর পুনর্গঠন ও স্থানান্তরের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, সীমানা পারাপার গোষ্ঠীর জন্য নিরাপত্তা শূন্যতা একটি সুযোগ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে, বিশেষ করে সােহেল অঞ্চলে আইএস-সম্পর্কিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এই আক্রমণকে দু’দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে আরও আকাশীয় অপারেশন, গ্রাউন্ড ফোর্সের সমন্বয় এবং সীমানা নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণের সম্ভাবনা উল্লেখ করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ সােহেল অঞ্চলের জটিল নিরাপত্তা চিত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments