ফ্লোরিডার মার‑এ‑লাগোতে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেন্স্কি দুজনেই দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় একসঙ্গে কাটিয়েছেন, যা দু’জনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময়ের সরাসরি সংলাপ। মিটিংয়ের পর উভয় নেতাই ইতিবাচক সুরে মন্তব্য করেন; ট্রাম্প মিটিংকে চমৎকার বলে প্রশংসা করেন, জেলেন্স্কি এটিকে সফল ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে, এই দীর্ঘ আলোচনার পরেও শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি প্রকাশ পায়নি। বছরের বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আলোচনার মতোই, এখনো ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত মূল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি—রাশিয়া যে শর্তে শান্তি চায়, তাতে ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল ত্যাগ করতে হবে কি না। রাশিয়ার এই চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছে বলে ধারণা করা হয়, তবে জেলেন্স্কি জনসমক্ষে এই শর্ত গ্রহণের ইঙ্গিত দেননি। তবু তিনি ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি স্বীকৃতির জন্য জনগণের ভোটের মাধ্যমে রেফারেন্ডাম আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
নিরাপত্তা গ্যারান্টি বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। জেলেন্স্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সমন্বিত হয়েছে বলে দাবি করেন, তবে সুনির্দিষ্ট কী গ্যারান্টি প্রদান করা হবে এবং তা রাশিয়ার পুনরায় আক্রমণ রোধে যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও অজানা। এই অনিশ্চয়তা উভয় দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের কারণ।
রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ফ্লোরিডায় আলোচনার আগে প্রস্তাবিত কিছু মূল ধারণা ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রাশিয়া তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং ইউক্রেনে বহুজাতিক পর্যবেক্ষণ বাহিনীর স্থাপনকে অস্বীকার করেছে। ফলে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তি রাশিয়া গ্রহণ করবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক মন্তব্যও আলোচনার পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য। তিনি ভ্লাদিমির পুতিনকে “গুরুতর” হিসেবে উল্লেখ করে, রাশিয়ার অবস্থানকে সমঝোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে রাশিয়া যদি এই শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমান পর্যন্ত, জেলেন্স্কি ট্রাম্পের চাপে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে; তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সমঝোতার পথ অনুসরণ করছেন।
এই মিটিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো এখনও অনিশ্চিত। ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায়, যুদ্ধের অবসান এখনও দূরে। নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং রাশিয়ার স্বীকৃতি ছাড়া কোনো চুক্তি বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই আলোচনার ফলাফল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়।
সংক্ষেপে, ট্রাম্প ও জেলেন্স্কির ফ্লোরিডা মিটিং দীর্ঘ সময়ের সংলাপের দিক থেকে একটি মাইলফলক হলেও, শান্তি প্রক্রিয়ার মূল বিষয়গুলো—ভূখণ্ড ত্যাগ, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং রাশিয়ার স্বীকৃতি—এখনো অনির্ধারিত রয়ে গেছে। রাশিয়ার স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান এবং ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



