ফ্লোরিডার মারা-লাগোতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি উভয়েই যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়ে দেন, তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত কিছু জটিল বিষয় এখনও সমাধান হয়নি।
দুই নেতাই আলোচনাকে “দারুণ” বলে প্রশংসা করেন, তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে এক বা দুইটি কঠিন বিষয় বাকি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জমির ভাগাভাগি।
জেলেনস্কি জানান, ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনার প্রায় ৯০ শতাংশে সম্মতি অর্জিত হয়েছে, আর ট্রাম্পের মতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে জেলেনস্কি টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের দলগুলো আবার মিলিত হয়ে অবশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
পটভূমিতে উল্লেখ করা যায়, রাশিয়া ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালায় এবং বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডোনবাস অঞ্চলের জন্য একটি নিরস্ত্রীকরণ জোনের প্রস্তাব এখনও অনির্ণীত রয়ে গেছে; ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি বলেন, কিছু জমি ইতিমধ্যে দখল করা হয়েছে, কিছু হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে আবার পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে মস্কো প্রায় ৭৫ শতাংশ ডোনেটস্ক এবং ৯৯ শতাংশ লুহান্স্ক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা সম্মিলিতভাবে ডোনবাস নামে পরিচিত।
রাশিয়া ইউক্রেনকে ডোনবাসের ছোট অংশ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি রাখে, আর কিয়েভ এই অঞ্চলকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক জোন হিসেবে রূপান্তর করার পক্ষে।
ট্রাম্পের ভূখণ্ড সংক্রান্ত অবস্থান পূর্বে পরিবর্তনশীল ছিল; এক সময় তিনি ইউক্রেনকে তা পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন, পরে আবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, এই কঠিন বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে।
আলোচনার অগ্রগতি এবং অবশিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তির পথে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে।



