ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ – হাদি নামের এক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মেঘালয় পুলিশ আজ জানিয়েছে যে, মামলায় উল্লেখিত সন্দেহভাজন ফয়সাল বর্তমানে ভারতের কোনো অংশে উপস্থিত নয় এবং এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
হাদি হত্যার ঘটনা ঘটার পর থেকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে আসছে। হাদির পরিবার ও সমর্থকগণ দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করে আসছেন, তবে মেঘালয় পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফয়সালের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি এবং তাকে ধরার জন্য কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মেঘালয় পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, ফয়সালকে ভারতীয় সীমান্তের বাইরে কোনো স্থানে অবস্থানরত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, ফলে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া তার গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, হাদির পরিবার আদালতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার সমাপ্তি দাবি করে আসছে।
হাদির কবরস্থলের পাশে শোকের স্রোত অব্যাহত রয়েছে, এবং পরিবারিক সদস্যরা হাদির কবরের পাশে অশ্রুসজল দিয়ে শোক প্রকাশ করছেন। হাদির মৃত্যুর পর থেকে স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে, এবং বহু সংগঠন ও নাগরিক গোষ্ঠী ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিবাদসূচক সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে।
মেঘালয় পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়েছে যে, হাদির মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিশ্লেষণাধীন রয়েছে। তদন্তকর্তারা ফয়সালের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সম্ভাব্য সহযোদ্ধাদের সন্ধানে আছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।
হাদির হত্যাকাণ্ডের আইনি দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাদির পরিবারকে নিকটস্থ আদালতে মামলা দায়ের করার সুযোগ দিয়েছে। আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, মামলাটি দ্রুত শোনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে, হাদির পরিবার ও সমর্থকগণ হাদির কবরস্থলের পাশে গিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে গর্জন করছেন।
মেঘালয় পুলিশ উল্লেখ করেছে যে, হাদির হত্যার পেছনে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত প্রেরণা নেই এবং এটি একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে হাদির পরিবার ও সমর্থকগণ এই ঘটনার সঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে যুক্ত করে দাবি তুলছেন, যা তদন্তের সময় বিবেচনা করা হবে।
হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হাদির পরিবার দাবি করে যে, ফয়সালকে ভারতীয় সীমান্তে লুকিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া তার গ্রেপ্তার কঠিন। মেঘালয় পুলিশ এই দিকটি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
হাদির মৃত্যুর পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাড়া দিয়েছে। তারা আদালতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং হাদির কবরস্থলের পাশে শোকের মিছিলের মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করছে।
মেঘালয় পুলিশ শেষ কথা হিসেবে জানিয়েছে যে, হাদির হত্যার তদন্তে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে হাদির পরিবার ও সমর্থকগণ ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন, এবং মামলার দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।



