28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ বইয়ের সেট না পাওয়ার সমস্যা

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ বইয়ের সেট না পাওয়ার সমস্যা

শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন মাত্র দু’দিন দূরে, তবে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এখনও মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ পাঠ্যপুস্তকের সেট সরবরাহ করতে পারেনি। নতুন বছরের প্রস্তুতি নেওয়া স্কুলগুলো এখন বইয়ের ঘাটতির মুখোমুখি, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

এনসিটিবি মোট ২১.৪৩ কোটি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ করার দায়িত্বে, যার মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি এখনো বিতরণ হয়নি। অর্থাৎ, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বই এখনও শেলফে আটকে আছে, যা শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করার আগে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনসিটিবি প্রায় ৫৯ শতাংশ বই স্কুলে পৌঁছে দিয়েছে। মুদ্রণ কাজের অগ্রগতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে সীমাবদ্ধ, তবে বাকি কাজের জন্য সময়সূচি পিছিয়ে গেছে। এই বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে টেন্ডার বাতিল এবং পর্যবেক্ষণের ঘাটতি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত। তাদের জন্য মাত্র ২১.৫ শতাংশ বইই এখন পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে, ফলে অধিকাংশ বিষয়ের বই অনুপস্থিত থাকবে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ততটা ভাল নয়; মাত্র ৩৭ শতাংশ বইই বিতরণ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শ্রেণিকে মোট ১২টি বই পাওয়ার কথা, যা এনসিটিবি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে বর্তমান বিতরণ হার দেখে স্পষ্ট যে, অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসের প্রথম দিনে পূর্ণ সেট পাবে না।

কিছু কর্মকর্তার মতে, যদি জানুয়ারি পর্যন্ত মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় কঠোর তদারকি না করা হয়, তবে সম্পূর্ণ বইয়ের সেট পৌঁছাতে আরও দেরি হতে পারে। এই উদ্বেগের পেছনে টেন্ডার পুনরায় জারি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি রয়েছে।

ষষ্ঠ এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে ভাল অবস্থায় আছে; তাদের জন্য যথাক্রমে প্রায় ৭০ এবং ৭২ শতাংশ বই ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ফলে এই দুই শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রথম দিনেই প্রয়োজনীয় সব বই পাবে বলে আশা করা যায়।

একজন গোপনীয় সূত্র উল্লেখ করেছেন, টেন্ডার বাতিলের ফলে সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, যা পুরো মুদ্রণ সময়সূচি পিছিয়ে দেয়। এই পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অনুমোদন দেরি একসাথে বইয়ের ঘাটতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আগস্ট মাসে সরকারী ক্রয় পরামর্শক পরিষদ ক্লাস ৬, ৭ এবং ৮ এর পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের টেন্ডার বাতিল করে দেয়। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনরায় টেন্ডার চালু করতে হয়, যা মুদ্রণ কাজকে কয়েক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়। এই ধাপটি বইয়ের সরবরাহে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোতিুর রহমান খান পাঠান জানান, ক্লাস ৬ এবং ৯ এর শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি ১ তারিখে পূর্ণ সেট পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই দুই শ্রেণির জন্য সব বিষয়ের বই যথাসময়ে পৌঁছাবে, ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

অন্যদিকে, ক্লাস ৭ এবং ৮ এর শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ সেট সরবরাহ এখনো সম্ভব নয়। জানুয়ারি ১ তারিখে তারা পাঁচ থেকে আটটি বই পাবে, তবে সব বিষয়ের বই একসাথে না পেয়ে প্রথম সপ্তাহে কিছু বিষয়ের পাঠে ঘাটতি থাকবে।

মুদ্রণ কাজ যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে, তবে পরবর্তী মাসে বাকি বইয়ের বিতরণ দ্রুততর হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের ঘাটতি একটি বাস্তব সমস্যা, যা সমাধানের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীর পরিবার ও শিক্ষকগণ এই সময়ে স্কুলের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন বিষয়ের বই সবচেয়ে জরুরি তা নির্ধারণ করতে পারেন। ডিজিটাল কপি বা লাইব্রেরি থেকে অস্থায়ীভাবে বই ধার নেওয়া একটি বিকল্প হতে পারে। আপনার সন্তান কোন বিষয়ের বই সবচেয়ে আগে দরকার, তা জানিয়ে স্কুলকে সহায়তা করা শিক্ষার গতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments