শুক্রবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকা শহরের কেন্দ্রানিগঞ্জে অবস্থিত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার হসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণ ফলে মাদ্রাসার ভবন ও পার্শ্ববর্তী দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ দল পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
বিস্ফোরণের পর现场ে পুলিশ ৩৯৪.৫ লিটার তরল রাসায়নিক, ২৭ কিলোগ্রাম পাউডার‑ধরনের পদার্থ, দুইটি শটগান কার্ট্রিজ, ৫০০ গ্রাম লোহার গুলি ও তার কাটার, পাঁচটি বৈদ্যুতিক বোমার মতো ডিভাইস, দুইটি বোমা, একটি ড্রিল মেশিন, একটি টাকা গুনার মেশিন, একটি হ্যান্ডকাফ এবং সতেরোটি বই উদ্ধার করে। এছাড়া, ইলেকট্রিক্যাল কেবল কাটার ও অন্যান্য সরঞ্জামও পাওয়া যায়।
দক্ষিণ কেন্দ্রানিগঞ্জ থানা থেকে সাব‑ইনস্পেক্টর রফিকুল ইসলাম অ্যান্টি‑টেররিজম আইন অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহুরুল ইসলাম আদালতে একটি ফরোয়ার্ডিং লেটার জমা দেন, যেখানে সন্দেহভাজনদের জিএমজেবি (জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ) নামে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠনের সমর্থক বলা হয়েছে।
মামলায় মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন শেইখ আল আমিন, ৩২ বছর বয়সী, মাদ্রাসার পরিচালক এবং পূর্বে সন্ত্রাসী অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন, এখনও পলায়নরত। অন্য নামগুলো হল শাহিন (উপনাম আবু বকর, মুসা, দিবা সুলতান, ৩২), আমিনুর (উপনাম দরজি আমিন, ৫০), শাফিয়ার রহমান ফকির, ৩৬, আসিয়া বেগম, ২৮, ইয়াসমিন আক্তার, ২১ এবং আসমানি খাতুন (উপনাম আসমা, ৩২)।
শাহিন, আমিনুর ও শাফিয়ার রহমান ফকিরকে ঢাকা আদালত সাত দিনের রিম্যান্ডে পাঠায়, আর আসিয়া, ইয়াসমিন ও আসমানি খাতুনকে তিন দিনের রিম্যান্ডে রাখা হয়। রিম্যান্ডের শর্তে তারা আদালতে উপস্থিত হতে হবে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
গ্রেফতারকৃত ছয়জন সন্দেহভাজনকে শুক্রবার থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং শহরের বাইরে থেকে গৃহীত করা হয়। গ্রেফতারকালে তাদের কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধারকৃত সামগ্রী থেকে তাদের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
প্রসিকিউশন দাবি করে যে, অভিযুক্তরা সমন্বিতভাবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা, সম্পত্তি ও প্রাণহানি করা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রসার ঘটানোর উদ্দেশ্যে কাজ করছিল। এছাড়া, তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিস্ফোরক তৈরি ও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অ্যান্টি‑টেররিজম আইনের অধীনে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতি, বিস্ফোরক তৈরি ও ব্যবহার, এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থন অন্তর্ভুক্ত। আদালত এখন রিম্যান্ডের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে, যেখানে প্রমাণ উপস্থাপন ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনো শেইখ আল আমিনের অবস্থান অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। মামলার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পরবর্তী সংবাদে জানানো হবে।



