জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১৬ দিন বাকি থাকায়, জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করা জোটের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জুলাই উত্থানের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত দলটি, নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এনসিপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের একাধিক পদত্যাগ ঘটেছে, যা জোটের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটকে ‘নির্বাচনি সমঝোতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, বৃহত্তর ঐক্য ও বিচার‑বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে একতাবদ্ধ হওয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। এই যুক্তি সত্ত্বেও, দলটির অভ্যন্তরে বহু নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
মহফুজ আলম, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সংগঠক ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন, তিনি রোববার রাতে এনসিপি থেকে নিজেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি আর এনসিপির অংশ নন এবং নতুন রাজনৈতিক গঠনে যোগ দেবেন না। তার এই সিদ্ধান্তের পূর্বে, একই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজও এনসিপিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
এনসিপি-র প্রতিষ্ঠা ২৮ ফেব্রুয়ারি হয় এবং একই দিনে জামায়াত‑ই‑ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনি জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে জোটের গঠন পরেই দলের অভ্যন্তরে একের পর এক পদত্যাগের শৃঙ্খল শুরু হয়। তাসনিম জারা, যিনি দলের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত, একই কারণ উল্লেখ করে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। তার পর, শ্রীমতি জারা, যিনি দলীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, রওনা হন এবং পরের দিনই যুগ্ম আহ্বায়িকা তাজনূভা জাবিনও পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাজনূভা নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট করেন এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।
পদত্যাগের পরেও কিছু কেন্দ্রীয় নেতা এখনও দলের মধ্যে রয়েছেন, তবে গঠিত জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মঞ্চে এই ধরনের অস্থিরতা উভয়ই সুবিধা ও অসুবিধা বয়ে আনতে পারে। একদিকে, জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা ভোটারদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে; অন্যদিকে, কিছু গোষ্ঠী এই অস্থিরতাকে বিদ্যমান শাসন কাঠামোর দুর্বলতা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
জোটের মধ্যে ধর্মভিত্তিক আটটি দল এবং ২৪ আন্দোলনের ছাত্র নেতারা অন্তর্ভুক্ত, যারা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এখন তারা কীভাবে একত্রে কাজ চালিয়ে যাবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। যদি জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় পুনরুদ্ধার না হয়, তবে নির্বাচনের পর পার্টিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠন বা নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি-জামায়াত জোটের অভ্যন্তরে ঘটমান নেতৃত্বের পদত্যাগ এবং অস্থিরতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এই পরিস্থিতি কীভাবে সমাধান হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



