28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্বতন্ত্র হবে, সাত সরকারি কলেজের সঙ্গে সংযুক্তি নিশ্চিত

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্বতন্ত্র হবে, সাত সরকারি কলেজের সঙ্গে সংযুক্তি নিশ্চিত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এখন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করবে, একই সঙ্গে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। পূর্বে পরিকল্পিত একীভূত কাঠামো থেকে সরে এসে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো আলাদা সত্তা হিসেবে পরিচালিত হবে, তবে সংযুক্তি (অ্যাটাচড) সম্পর্ক বজায় থাকবে।

এই পরিবর্তনটি বছরের শেষের দিকে নেওয়া হয়, যাতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার মতে, একসময় সাতটি সরকারি কলেজকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু এখন তা পরিবর্তন করে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হয়েছে। ফলে কলেজগুলো নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখবে, আর বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্বভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরিচালনা করবে।

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো ১০,১৯৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৯,৩৮৮ জনের ভর্তি নিশ্চিতকরণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে ভর্তি নেওয়া এই শিক্ষার্থীরা এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় পায়নি, ফলে তারা পরিচয় সংকটে ভুগছেন। অন্যদিকে, একই সময়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে, কিন্তু ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস এখনও শুরু হয়নি।

সাতটি কলেজের ক্যাম্পাসে এক বছর ধরে কোনো ক্লাস না হওয়ায়, ওই কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই ধরণের সমস্যার মুখোমুখি। দীর্ঘ সেশন জটের ফলে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েল অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালু করা যায়। এই ম্যানুয়েল অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে সাতটি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রথম বর্ষের ভর্তি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।

নতুন সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে, আর সাতটি কলেজও স্বতন্ত্র থাকবে। তারা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, তবে কোনো অধিভুক্তি বা একীভূত কাঠামো গঠন হবে না। এই মডেলটি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বচ্ছ পরিচয় ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।

প্রায় এক বছর ধরে ক্লাস না চলা শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখন তারা নির্ধারিত তারিখে ক্লাসে অংশ নিতে পারবে, যা তাদের একাডেমিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে। এছাড়া, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের কাঠামো শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

শিক্ষা নীতি অনুসারে, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের মধ্যে সংযুক্তি বজায় রেখে, উভয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা সম্ভব। এই মডেলটি অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যও উদাহরণ হতে পারে, যেখানে স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে কাজ করা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় থাকে।

প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শিক্ষার্থীরা এখন তাদের ভর্তি নিশ্চিতকরণ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। ক্যাম্পাসে নতুন সেমেস্টার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, লাইব্রেরি, ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করার সুযোগও পাবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়ে সময়সূচি ঠিক করে, পাঠ্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।

শেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: ক্লাস শুরু হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সময়সূচি, ক্লাস রুম ও ফি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নিন। আপনার পরিচয়পত্র ও ভর্তি নিশ্চিতকরণ পত্র হাতে রাখুন, যাতে কোনো দেরি না হয়।

আপনার মতামত কী? স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজের মডেল আপনার শিক্ষার গুণগত মানে কী প্রভাব ফেলবে? মন্তব্যে আপনার ধারণা শেয়ার করুন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments