২০২৫ সালে ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে পূর্বাঞ্চলীয় কনফারেন্স শিরোপা এবং এমএলএস কাপ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জয় করে বছরের শীর্ষ পারফরম্যান্স হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একই সময়ে ৪০ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরে নিয়মিত গোলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত রেকর্ড বাড়িয়ে চললেও কোনো দলীয় শিরোপা অর্জন করতে পারেননি।
মেসি এই সিজনে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩৮ বছর বয়সেও মাঠে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা ও প্রভাব বজায় রেখেছেন। পূর্বাঞ্চলীয় কনফারেন্স শিরোপা জয় এবং পরবর্তী এমএলএস কাপ জয় তার ক্যারিয়ারে নতুন দুইটি ট্রফি যোগ করেছে, ফলে তার মোট শিরোপার সংখ্যা ৪৭ে পৌঁছেছে, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে স্বীকৃত।
ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসি ২০২৫ সালে ৪৩টি গোল করেছেন, আর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অতিরিক্ত ৩টি গোলের যোগফল তার মোট গলসকে ৪৬ করে তুলেছে। এই সংখ্যা তার বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখনও শীর্ষ স্তরের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা নির্দেশ করে।
গোলের পাশাপাশি মেসি সহায়তায়ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি ৫৪টি ম্যাচে ২৮টি অ্যাসিস্ট প্রদান করে দলের ৭১টি গোলের সরাসরি অংশীদারিত্বে ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে তিনি কেবল স্কোরার নয়, সৃষ্টিকর্তা হিসেবেও অপরিহার্য।
এমএলএস কাপ প্লে-অফে মেসি ছয়টি ম্যাচে ছয়টি গোল করে বড় ম্যাচের নায়কত্ব পুনরায় প্রমাণ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার গোলদানের ধারাবাহিকতা দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের পথে অগ্রসর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও মেসি ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রেখে দলকে আক্রমণাত্মক বিকল্প প্রদান করছেন। তার আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সে গোল ও সহায়তার সমন্বয় তার বহুমুখী দক্ষতা তুলে ধরেছে।
সামগ্রিকভাবে মেসির ২০২৫ সালের পারফরম্যান্স তার বয়সের সীমা অতিক্রম করে ফুটবলের শীর্ষে তার অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। শিরোপা সংখ্যা, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বড় ম্যাচে গলদানের সমন্বয় তাকে এই বছর সর্বোচ্চ প্রভাবশালী খেলোয়াড়ের শিরোপা এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে রোনালদো ৪০ বছর বয়সে আল-নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে ধারাবাহিকভাবে গোল করছেন। যদিও তার গোলসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সিজনের শেষ ম্যাচগুলো এখনও বাকি থাকলেও দলীয় শিরোপা অর্জনে তিনি কোনো সফলতা পেতে পারেননি।
রোনালদোর ব্যক্তিগত রেকর্ডে তিনি এখনও হাজারো গোলের স্বপ্ন অনুসরণ করছেন এবং তার গতি ও শুটিং ক্ষমতা অনেক ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। তবে দলীয় দিক থেকে এই বছর কোনো ট্রফি যোগ করতে পারেননি, যা মেসির তুলনায় তার প্রভাবকে সীমিত করেছে।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রে রোনালদোও আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে অবদান রেখেছেন, তবে মেসির মতো শিরোপা বা টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তার ব্যক্তিগত অর্জনগুলো যদিও উজ্জ্বল, তবে দলের সমগ্র সাফল্যে তার অবদান এই বছর সীমিত রয়ে গেছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে দু’টি প্রধান শিরোপা জয় করে এবং গোল-অ্যাসিস্টের উভয় দিকেই শীর্ষে অবস্থান করে বছরের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজেকে নিশ্চিত করেছেন। রোনালদো যদিও গোলের ক্ষেত্রে এখনও তীক্ষ্ণ, তবে শিরোপা দৌড়ে মেসির পেছনে পড়েছেন।
ইন্টার মায়ামি এবং আল-নাসরের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উভয় খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে। ইন্টার মায়ামি এমএলএস সিজনের শেষের দিকে চ্যাম্পিয়নশিপ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, আর আল-নাসর সৌদি প্রো লিগের শেষ পর্যায়ে শিরোপা চ্যালেঞ্জের জন্য শেষ মুহূর্তে গতি বাড়াবে।



