নিউ জার্সির হ্যামন্টনে রবিবার দুপুরে দুইটি হেলিকপ্টার আকাশে ধাক্কা খাওয়ার ফলে এক পাইলটের মৃত্যু এবং অন্য পাইলটের গুরুতর আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে সংঘর্ষের সময় উভয় যন্ত্রে কেবল পাইলটই ছিলেন এবং একটি হেলিকপ্টার আগুনে জ্বলে মাটিতে ধসে পড়ে।
হ্যামন্টন পুলিশ জানায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত হেলিকপ্টারটি আগুনে জ্বলে উঠার পরই মাটিতে অবতরণ করে, ফলে জরুরি সেবা দলকে আগুন নিভাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার ফাইটার ও মেডিক্যাল টিম দ্রুত কাজ করে, তবে এক পাইলটের শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) উল্লেখ করেছে, উভয় যানে কেবল পাইলটই ছিলেন এবং সংঘর্ষের কারণ নির্ধারণের জন্য ফেডারেল তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের আওতায় উড়ান রেকর্ড, রেডার ডেটা এবং পাইলটের প্রশিক্ষণ ইতিহাসসহ সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
হ্যামন্টন শহরটি ফিলাডেলফিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩৫ মাইল (৫৬ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত এবং আটলান্টিক সিটি এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি। এই অঞ্চলটি ছোট শহর হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিমান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের মতে, আহত পাইলটকে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি ‘গুরুতর জীবন-হুমকিস্বরূপ আঘাত’ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা দল বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) প্রকাশ করেছে, সংঘর্ষে জড়িত দুইটি হেলিকপ্টার ছিল এনস্টর্ম ২৮০সি এবং এনস্টর্ম এফ-২৮এ মডেল, এবং ঘটনাটি প্রায় ১১:২৫ ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম (১৬:২৫ ব্রিটিশ সামার টাইম) ঘটেছে। উভয় যন্ত্রই হালকা ওজনের, যা সাধারণত তিনজন বা ততোধিক না থাকা যাত্রী বহন করতে সক্ষম।
এই ধরনের হালকা হেলিকপ্টার সাধারণত প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ বা ছোট দূরত্বের পরিবহন কাজে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের ক্যাপাসিটি সীমিত হওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রভাব সীমিত থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে দুজন পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে একের মৃত্যু এবং অন্যের গুরুতর আঘাত ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন, ডি.সি.-তে একটি সামরিক হেলিকপ্টার এবং একটি যাত্রী জেটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল, যেখানে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে হেলিকপ্টার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় তীব্রতা বেড়েছে, এবং FAA ধারাবাহিকভাবে দুর্ঘটনা হারের হ্রাসের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
FAA এর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হেলিকপ্টার সম্পর্কিত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার গড়ে হ্রাস পেয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা কমে এসেছে, তবে উচ্চ-গতি ও নিম্ন-উচ্চতার উড়ানকালে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
বর্তমানে ফেডারেল তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল অনুসারে সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘন, যন্ত্রের ত্রুটি বা পাইলটের মানবিক ভুলের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে।
অনুসন্ধান শেষ হয়ে ফলাফল প্রকাশের পর, FAA এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা আপডেট করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে পারে। এই ঘটনা হেলিকপ্টার পরিচালনায় সতর্কতা ও নিয়মের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



