বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে আগামীকাল থেকে সোনার দাম প্রতি ভোরি (১৫.৫ গ্রাম) টাকার ২১৮,১১৬-এ নির্ধারিত হবে। এই মূল্য স্থানীয় বাজারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাবে। পূর্বে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ দাম ছিল টাকার ২১৭,৩৮১ প্রতি ভোরি।
এই নতুন মূল্য নির্ধারণের আগে বাজুস এক সপ্তাহ আগে সোনার দাম টাকার ২১৭,০৬৭ প্রতি ভোরি নির্ধারণ করেছিল, যা ১১.৬৬৪ গ্রাম সমান। সর্বোচ্চ ২১৭,৩৮১ টাকার দাম প্রথমবার অক্টোবর ১৯ তারিখে ঘোষিত হয়েছিল, এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য শিথিলতার ফলে দাম প্রায় টাকার ২,০০,০০০ স্তরে নেমে আসে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশীয় বাজারে ধীরে ধীরে দাম বাড়ছে। এই প্রবণতা বৈশ্বিক সোনার মূল্যের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি প্রধান বিনিয়োগ ব্যাংক আগামী ২০২৬ সালের শেষের দিকে সোনার দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক আউন্সে ৪,৯০০ ডলার (প্রায় টাকার ৬,০০,০০০) পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এই অনুমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থেকে উদ্ভূত।
এক আউন্স সোনার ওজন ২৮.৩৪৯৫ গ্রাম, যা আন্তর্জাতিক মূল্যের হিসাবের ভিত্তি। স্থানীয় বাজারে ভোরি এককটি ১৫.৫ গ্রাম সমান, ফলে আন্তর্জাতিক আউন্স মূল্যের পরিবর্তন সরাসরি ভোরি দামে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক ক্রেতাদের জন্য এই রেকর্ড দাম অর্থনৈতিকভাবে উচ্চ প্রবেশমূল্য নির্দেশ করে। গহনা বিক্রেতারা মুনাফার মার্জিন সমন্বয় করতে পারেন, আর সাধারণ ভোক্তারা দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ক্রয় বিলম্ব করতে পারেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি বৈশ্বিক মুদ্রা নীতি শিথিল থাকে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় থাকে, তবে সোনার দাম বাড়তে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ কোনো পতন ঘটলে স্থানীয় দামও দ্রুত হ্রাস পেতে পারে, যেমন অক্টোবরের শীর্ষের পর দেখা গিয়েছিল।
সারসংক্ষেপে, বাজুসের নতুন মূল্য নির্ধারণ দেশের সোনার বাজারে সর্বোচ্চ স্তর স্থাপন করেছে, যা দেশীয় চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাজারের গতিবিধির সমন্বয়ে ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় প্রবণতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা



