রবিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বসে থাকা ২০ বছর বয়সী আব্দুর রহমানকে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি কুপিয়ে ছুরিকাঘাতে গুলি করে মেরে ফেলেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায়, রিকশার সামনে ও পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণকারী গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আব্দুর রহমান সিরাজগঞ্জের সয়াধানগড়া খানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ইসলামিয়া সরকারী কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর তার চাচা সোহাগের মাধ্যমে জানানো হয়, যিনি জানান, সন্ধ্যায় হাসপাতালে ফোনে জানানো হয় যে আব্দুর সেখানে ভর্তি আছে, তবে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আক্রমণের পর স্থানীয় মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহতকে উদ্ধার করে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করায়। তবে গুলির সঠিক কারণ ও শিকারকে লক্ষ্য করে কেন গুলি করা হয়, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, ঘটনাস্থলে তদন্তের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তবে গুলি চালানোর পেছনের উদ্দেশ্য ও সহ-অপরাধীদের পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ চলমান। পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষী-বিবরণীর মাধ্যমে তদন্তকে ত্বরান্বিত করছে।
পুলিশের মতে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি রিকশা চালকের কাছাকাছি বসে থাকা অবস্থায় গুলির দায়িত্ব স্বীকার করেছে, তবে গুলি করার কারণ ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও রিকশা চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া, সিএনজি চালিত রিকশার সিকিউরিটি ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায়, গুলি করার সময় রিকশা চলমান অবস্থায় ছিল এবং গুলির দিক পরিবর্তন করে দু’দিক থেকে আক্রমণ করা হয়েছে।
শিকারের পরিবার গৃহীত সহায়তা ও ন্যায়বিচার দাবি করে। চাচা সোহাগ বলেন, “আব্দুরের মৃত্যুতে পরিবার গভীর শোকের মধ্যে আছে। আমরা দ্রুত তদন্তের ফলাফল ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রত্যাশা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুলির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার জন্য পরিবার ও সমাজের সমর্থন প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনের পাশাপাশি সম্ভাব্য সহ-অপরাধীদের সনাক্তকরণে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থী ও যুবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা ও ছাত্রদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশও রিকশা চালকদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা যায়।
অধিক তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায় প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে, গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনের জিজ্ঞাসাবাদ চলমান এবং শিকারের পরিবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার জন্য আইনগত সহায়তা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।



