বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রোববার তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) অন্তর্ভুক্ত, যাদের উভয়ই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে নিবন্ধন নিশ্চিত হয়েছে। উভয় দলই ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন পেয়েছে। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন খেলোয়াড়ের যোগদানকে চিহ্নিত করে।
নেজামে ইসলাম পার্টির জন্য নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে “বই” বরাদ্দ করা হয়েছে, আর সমঅধিকার পার্টির প্রতীক নির্ধারিত হয়েছে “দোয়াত কলম”। প্রতীকগুলো দলগুলোর আদর্শ ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্বাচিত হয়েছে এবং ভোটারদের কাছে সহজে চেনার সুযোগ দেবে। প্রতীক নির্ধারণের পাশাপাশি দলগুলোর নাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণও কমিশনের তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতে দলটি নিবন্ধন পেয়েছে এবং শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র জমার সময় বাড়ানোর জন্য কোনো আবেদন করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং নির্বাচনী সময়সূচি অনুসরণ করবে।
বিইপির চেয়ারম্যান সুশান্ত চন্দ্র বর্মনও একই দিনে জানিয়েছেন, দলটি এখনো নিবন্ধন পেয়েছে এবং আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিবন্ধন পাওয়ার পর দলটি দ্রুতই নির্বাচনী কাগজপত্রের প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে।
১৩তম সংসদ নির্বাচনের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে, যা প্রার্থীদের জন্য সীমিত সময়সীমা তৈরি করেছে। নিবন্ধিত দলগুলোকে এই সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে, নতুবা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে পারে।
এই দুই দলের নিবন্ধনের আগে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশন মোট ছয়টি নতুন দলকে অনুমোদন করে। এ সব দলই এমএম নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে, নির্বাচনের আগে নিবন্ধন পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক বহুমুখীতার বৃদ্ধি এবং ভোটারদের জন্য বিকল্পের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বর ৪ তারিখে, আমজনতার দল ও জনতার দলকে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আমজনতার দলকে “প্রজাপতি” প্রতীক এবং জনতার দলকে “কলম” প্রতীক প্রদান করা হয়। উভয় দলই তাদের প্রতীক দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, ১৮ নভেম্বর, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)কে নিবন্ধন প্রদান করা হয়। এনসিপির প্রতীক “শাপলা কলি” এবং সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতীক “কাঁচি” নির্ধারিত হয়। এই দুই দলের নিবন্ধন রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন মতবাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য ১০ মার্চ পর্যন্ত আবেদন আহ্বান করা হয়, তবে একবার সময় বাড়ানোর পর ২২ জুনের মধ্যে মোট ১৪৩টি দল আবেদন জমা দেয়। এর মধ্যে নতুন ছয়টি দলকে অনুমোদন দেওয়া হয়, ফলে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯-এ পৌঁছায়। এই সংখ্যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে।
অবশ্যই, সব দলই নিবন্ধন পায়নি; আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে, আর পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি মানদণ্ড বজায় রাখতে গৃহীত হয়েছে।
নতুন দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। নিবন্ধিত দলগুলো ভোটারদের নতুন বিকল্প প্রদান করবে, ফলে প্রধান দলগুলোর ভোট ভাগে প্রভাব পড়তে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন ও মনোনয়নপত্রের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনগুলো নির্বাচনী ক্যালেন্ডারকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



