ডুবাইতে অনুষ্ঠিত এক্সিবিশন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার নিক কিরগিয়স, নারী বিশ্বের নম্বর এক আর্যনা সাবালেনকারাকে ৬-৩, ৬-৩ স্কোরে পরাজিত করে ‘বেটল অব দ্য সেক্সেস’ শিরোনামের প্রতিযোগিতা শেষ করেন। এই ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দুজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার পরিচালনা করা এজেন্সি দ্বারা আয়োজিত হয়।
ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরুষ ও নারী টেনিসের ক্ষমতা পার্থক্যকে হাইলাইট করা, তবে নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয় যাতে কিরগিয়সের শক্তি ও গতি সীমাবদ্ধ করা যায়। প্রতিটি খেলোয়াড়কে মাত্র একবার সার্ভ করার অনুমতি দেওয়া হয় এবং সাবালেনকারার কোর্সের প্রস্থকে মূলের তুলনায় নয় শতাংশ ছোট করা হয়।
ম্যাচের সূচনায় সাবালেনকারা ‘আই অব দ্য টাইগার’ থিমের সঙ্গীতের সঙ্গে ঝলমলে জ্যাকেট পরিধান করে মঞ্চে প্রবেশ করেন, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। কিরগিয়সও নিজের স্বাভাবিক শৈলীতে খেললেও, একাধিকবার তার সার্ভ ভাঙা সত্ত্বেও তিনি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট জয় করতে সক্ষম হন।
দুই সেটে ৬-৩ স্কোরে জয়লাভ করে কিরগিয়স ম্যাচটি শেষ করেন। তার পারফরম্যান্সে বিশেষ করে রিটার্নে সাবালেনকারার শক্তিশালী সার্ভকে মোকাবেলা করা উল্লেখযোগ্য ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন, “এটি সত্যিই কঠিন ম্যাচ ছিল, তিনি একজন চমৎকার চ্যাম্পিয়ন এবং অনেকগুলো সার্ভ ভেঙে দিয়েছেন, তাই আমাকে নিজের গেমে মনোযোগ দিতে হয়েছিল।” তিনি ভবিষ্যতে আবার সাবালেনকারার সঙ্গে খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কিরগিয়স বর্তমানে ATP র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭১ নম্বরে অবস্থান করছেন, কারণ গত তিন বছরেই তিনি মাত্র ছয়টি ট্যুর-লেভেল ম্যাচ খেলেছেন। তবুও তিনি ২০২২ সালের উইম্বলডন ফাইনালিস্ট হিসেবে পরিচিত এবং তার শটের গতি ও সুনির্দিষ্টতা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
সাবালেনকারা, যিনি নারী একক র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন, চারবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন এবং বর্তমান মৌসুমে তার ফর্ম স্থিতিশীল। যদিও তিনি এক সার্ভের সীমাবদ্ধতা এবং কোর্সের ছোট আকারের কারণে কিছুটা অসুবিধা অনুভব করেন, তবু তার প্রতিপক্ষের শক্তি মোকাবেলায় তিনি দৃঢ় ছিলেন।
কিরগিয়সের মন্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, “সত্যি বলতে nerves ছিল, কারণ তিনি যখন মঞ্চে প্রবেশ করলেন, তখন পুরো হলটা ‘আই অব দ্য টাইগার’ গানের সুরে ভরে গিয়েছিল।” তার এই স্বীকারোক্তি ম্যাচের মানসিক দিককে উন্মোচন করে, যেখানে উভয় খেলোয়াড়ই উচ্চ স্তরের চাপের মধ্যে পারফর্ম করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ইভেন্টের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে এই ধরনের প্রদর্শনী ম্যাচের মূল লক্ষ্য হতে পারে টেলিভিশন রেটিং বাড়ানো এবং উভয় খেলোয়াড়ের এজেন্সির জন্য আর্থিক লাভ অর্জন। এছাড়া, কিরগিয়সের অতীতের কিছু বিতর্কিত ঘটনা, যেমন ২০২১ সালে এক্স-গার্লফ্রেন্ডের ওপর আক্রমণ স্বীকার করা এবং পূর্বে কিছু মিসোজিনিস্ট মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হওয়া, এই ম্যাচের পুরুষ ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
কিরগিয়সের ক্যারিয়ারে পূর্বে বেশ কিছু বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ২০২১ সালে তিনি এক্স-গার্লফ্রেন্ডের ওপর আক্রমণ স্বীকার করেন এবং তার পূর্বের কিছু মন্তব্যের জন্য মিডিয়ার তীব্র সমালোচনার শিকার হন। এই ঘটনাগুলি তার পাবলিক ইমেজকে প্রভাবিত করেছে এবং কিছু ভক্তের কাছেও প্রশ্ন তুলেছে যে তিনি এমন একটি ইভেন্টে পুরুষ প্রতিনিধিত্বের জন্য উপযুক্ত কিনা।
এই ম্যাচের নাম ‘বেটল অব দ্য সেক্সেস’ হলেও, এটি ১৯৭৩ সালের বিখ্যাত ম্যাচের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না। সেই সময়ে বিলি জিন কিং, নারী টেনিসের অন্যতম কিংবদন্তি, ৫৫ বছর বয়সী ববি রিগ্সের বিরুদ্ধে হিউস্টনে তিন সেটে (৬-৪, ৬-৩, ৬-৩) জয়লাভ করেন। সেই ম্যাচের পেছনে ছিল নারীদের পেশাদার টুর্নামেন্টের স্বীকৃতি ও পুরুষদের তুলনায় কম পুরস্কার অর্থের সমস্যার সমাধান। আজকের দুবাইয়ের ইভেন্টে যদিও নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবু পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়ের ক্ষমতা পার্থক্যকে মাপার মূল উদ্দেশ্য একই রকম দেখা যায়।
ম্যাচের পর কিরগিয়স এবং সাবালেনকারা উভয়ই ভবিষ্যতে আবার একে অপরের সঙ্গে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা টেনিস ভক্তদের জন্য নতুন উত্তেজনা তৈরি করবে। দুবাইতে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী ম্যাচটি টেনিসের দুই লিঙ্গের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বর্তমান টেনিস জগতের বাণিজ্যিক দিককে উন্মোচন করেছে।



