বিগ বস ১৮-এ এই সপ্তাহে সারা আরফিন খানকে বাদ দেওয়া হয়, যখন তিনি স্কি‑বোর্ড টাস্কে সহপ্রতিযোগীদের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন। টাস্কটি ছিল রেস‑কোর্সে দ্রুত গতি অর্জন করা, তবে সারা টাস্কের নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্য অংশগ্রহণকারীদের ধাক্কা ও টেনে নেন। ফলে তিনি টাস্ক থেকে অযোগ্য ঘোষণা পান এবং তার আচরণ ঘরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
স্কি‑বোর্ডে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করার সময় সারা কয়েকজন প্রতিযোগীকে ধাক্কা দেন, যার মধ্যে চুম দারংও ছিলেন। চুমের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার মুহূর্তে করণ ভীর মেহরা হস্তক্ষেপ করে তাকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন। তবে সারা এই হস্তক্ষেপকে নিজের ওপর আঘাতের অভিযোগে রূপান্তরিত করেন এবং করণকে দোষারোপ করেন।
করন ভীর মেহরা সারা কে থামাতে গিয়ে যে শারীরিক সংস্পর্শে আসেন, তা সারা পরে ‘আমার ওপর আঘাত করেছে’ বলে উল্লেখ করেন। এই ঘটনার পর সারা তার সহকর্মী ভিভিয়ান দসেনার সঙ্গে মুখোমুখি হন, যেখানে তিনি জানান টাস্কের সময় তিনি একা ও ভীত ছিলেন, তাই স্বরক্ষার স্বরূপ তার কাজ হয়েছিল। ভিভিয়ান এই ব্যাখ্যা শোনার পরও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সারা টাস্কে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি শো-কে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি শো কর্তৃপক্ষ তার অভিযোগের যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি তার আইনজীবী দলের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এই হুমকি শো-র প্রযোজক ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে।
বিগ বসের ঘরে এই ঘটনার পর দলভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিছু গৃহস্থালি সারা-কে সমর্থন করে, অন্যরা করণকে ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচনা করে। উভয় পক্ষেরই নিজস্ব যুক্তি রয়েছে, ফলে ঘরের পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা বজায় থাকে।
এ পর্যন্ত ঘরে বেঁচে থাকা অংশগ্রহণকারীরা হলেন ভিভিয়ান দসেনা, ঈশা সিং, অবিনাশ মিশ্রা, চুম দারং, শৃতিকা অর্জুন, করণ ভীর মেহরা, চাহাত পাণ্ডে, কাশিশ, রজত দালাল। এই তালিকায় নতুন করে যোগদানকারী বা বাদ হওয়া সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে শো-এর গতিবিধি অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিবর্তন হতে পারে।
সারা আরফিন খানকে বাদ দেওয়া শো-র রেটিং ও দর্শকের মনোভাবের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার আইনি হুমকি শো-র পরিচালনায় অতিরিক্ত সতর্কতা ও নীতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিগ বসের এই সিজনের অন্যান্য বাদ হওয়া অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে সারা-র ঘটনার তুলনা করা যায় না, কারণ তার বাদ হওয়া সরাসরি শারীরিক সংঘর্ষের ফলাফল। পূর্বে একই সিজনে অন্য কোনও অংশগ্রহণকারী একই রকম অভিযোগে বাদ হয়নি, ফলে এই ঘটনা শো-র ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
শো-র নির্মাতা দল এখন এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। তারা সারা-র অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেবে কিনা, তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। একই সঙ্গে, ঘরের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে শো-র পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
দর্শকরা এই ঘটনার পরবর্তী পর্বে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কিছু দর্শক সারা-র অবস্থানকে সমর্থন করছেন, অন্যরা শো-র ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই দ্বিমত ভবিষ্যতে শো-র জনপ্রিয়তা ও ভোটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিগ বস ১৮-এ এখন পর্যন্ত মোট দশটি টাস্ক সম্পন্ন হয়েছে, এবং প্রতিটি টাস্কের পর ফলাফল ঘরে নতুন গতিবিধি তৈরি করে। সারা-র বাদ হওয়া এবং তার আইনি হুমকি শো-র গতি পরিবর্তন করে, ফলে পরবর্তী টাস্কে অংশগ্রহণকারীরা আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
শো-র পরবর্তী পর্বে কী ঘটবে, তা এখনও গোপন, তবে সারা-র বাদ হওয়া এবং তার আইনি হুমকি শো-র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন দিক যোগ করবে। দর্শক ও গৃহস্থালি উভয়ই এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে।



