টটেনহ্যাম হটস্পারস ২-১ স্কোরে ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে, আর্চি গ্রে প্রথমার্ধে হেডার করে তার ৬০তম উপস্থিতিতে দলকে জয় এনে দিলেন। গ্রীষ্মে লিডস থেকে টটেনহ্যামে যোগদান করা ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডারটি এই মৌসুমে প্রথম গোলের স্বাদ পেয়েছেন, যা তাকে জানুয়ারি ২০১৬-এ ডেলি আলি থেকে ইংরেজি খেলোয়াড় হিসেবে টটেনহ্যামের প্রিমিয়ার লীগ গোলের সর্বশেষ রেকর্ডধারী করে তুলেছে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গ্রে দলের সমর্থকদের কাছ থেকে উল্লাস ও স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়ে কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের কাছ থেকে আলিঙ্গন পেয়েছিলেন।
টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থান এখন প্যালেসের এক পয়েন্ট পিছিয়ে, যা ফ্র্যাঙ্কের দায়িত্বের ওপর বাড়তি চাপকে কিছুটা হ্রাস করেছে। পূর্বে আটটি প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে মাত্র এক জয় অর্জনকারী দলটি, এই জয় দিয়ে ধারাবাহিকতা ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। তবে দলটি এখনও আক্রমণাত্মক দিক থেকে সমস্যায় রয়েছে, কারণ এই মৌসুমে তারা মোট ২০টি গোল conced করেছে, যার মধ্যে ১২টি সেট-পিস থেকে এসেছে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাসনারের অধীনে দলটি শেষ পাঁচটি ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে কঠিন সময় পার করছে। প্যালেসের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা স্পষ্ট, বিশেষ করে সেট-পিসে শূন্যতা রয়েছে, যা টটেনহ্যামকে সুযোগসন্ধানী করে তুলেছে। প্যালেসের এই ধারাবাহিক অজয়তা টটেনহ্যামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টটেনহ্যামের সাম্প্রতিক দূরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে জয় না পাওয়া এবং চারটি পরাজয় সহ মোট পাঁচটি ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়া দলকে উদ্বিগ্ন করেছে। লিভারপুলের সঙ্গে গত সপ্তাহে রেড কার্ডে ক্যাপ্টেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং প্লেমেকার জাভি সিমন্স বাদ পড়ে, ফলে দলের মাঝখানে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের আঘাত তালিকাও দলের গঠনকে প্রভাবিত করেছে।
ম্যাচের শুরুর চার মিনিটে রোমেরোর পরিবর্তে মাঠে নামা কেভিন ড্যানসো জাস্টিন ডেভেনি-কে পেনাল্টি এরিয়া বাইরে ট্রিপ করে, তবে রেফারী জ্যারেড গিলেট তাৎক্ষণিকভাবে হলুদ কার্ড দেখিয়ে ড্যানসোকে সতর্ক করেন। ড্যানসোকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয় কারণ পেড্রো পোরো ডিফেন্সে ফিরে আসার চেষ্টা করছিল, যদিও গ্লাসনার এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
টটেনহ্যামের আক্রমণাত্মক লাইনআপে রোমেরো এবং সিমন্সের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, গ্রে এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা সুযোগ তৈরি করে দলকে জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রের হেডার গোলের পর টিমের সমর্থকরা তাকে উল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন, যা মাঠে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে। ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে গ্রের আলিঙ্গন এই জয়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় টটেনহ্যাম মোট ২টি গোল করেছে, যেখানে প্যালেসের একক গোলের মাধ্যমে তারা ১-১ সমতা বজায় রাখতে চেয়েছিল। গ্রের গোলের আগে টটেনহ্যাম ইতিমধ্যে এক গোল করে নেতৃত্ব দিত, যা প্যালেসকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল। প্যালেসের রক্ষণাত্মক ত্রুটি বিশেষ করে সেট-পিসে স্পষ্ট ছিল, যা গ্রের হেডার গোলের মূল কারণ।
টটেনহ্যামের কোচ ফ্র্যাঙ্কের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি দলের বর্তমান পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট এবং খেলোয়াড়দের মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে গ্রের মতো তরুণ খেলোয়াড়ের উত্থান দলকে নতুন শক্তি দিচ্ছে। ফ্র্যাঙ্কের নেতৃত্বে টটেনহ্যাম এখন পরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।
প্যালেসের কোচ গ্লাসনারও ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সে দুঃখ প্রকাশ করেন, বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে রক্ষার দুর্বলতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছিলেন, দলকে সেট-পিসে আরও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। গ্লাসনারের মতে, প্যালেসের পরবর্তী ম্যাচে রক্ষণাত্মক উন্নতি না হলে ফলাফল বদলাবে না।
টটেনহ্যামের পরবর্তী প্রতিপক্ষের তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকলেও, দলটি এখন লিগ টেবিলে প্যালেসের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে এবং শিরোপা লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। ফ্র্যাঙ্কের দল এখন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শীর্ষে চড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে।
এই জয় টটেনহ্যামের জন্য একটি মানসিক উত্তোলন, যা দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে সাহায্য করবে। গ্রের প্রথম গোলের গুরুত্ব শুধু স্কোরে নয়, বরং দলের মনোবলে বড় প্রভাব ফেলেছে। টটেনহ্যাম এখন লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, আর্চি গ্রের হেডার গোল টটেনহ্যামকে প্যালেসের ওপর জয় এনে দিয়েছে, যা ফ্র্যাঙ্কের দায়িত্বের চাপকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এবং দলকে লিগে এক পয়েন্টের নিকটবর্তী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। দলটি এখন রক্ষণাত্মক দুর্বলতা দূর করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।



