বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলাম ৩ জানুয়ারি ঢাকা সুহরাওয়ার্ডি উদ্যান‑এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যে বৃহৎ র্যালি, তা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সময়ের সংঘর্ষের কারণে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। র্যালির মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্টির সমর্থকদের একত্রিত করে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করা, তবে একই দিনে নয়টি কৃষি ও কৃষি‑সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয়েছে।
পার্টির সচিব সাধারণ মিয়া গোলাম পরওয়ার রাষ্ট্রীয় বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, র্যালি স্থগিত করার কারণ হল ৩ জানুয়ারি নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি। তিনি উল্লেখ করেন, “এই দিনটি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা র্যালি পুনরায় নির্ধারণের আগে সকলের স্বার্থ বিবেচনা করছি।” পার্টি এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রতি সম্মানসূচক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে নয়টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান। এই পরীক্ষাগুলি দেশের কৃষি সেক্টরের ভবিষ্যৎ কর্মী নির্বাচন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ফলে একই দিনে রাজনৈতিক সমাবেশের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
র্যালির নতুন তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। পার্টি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ না করা সত্ত্বেও, র্যালি পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পার্টি কর্মীরা নতুন তারিখের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, জাতীয় পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জরুরি সংবাদ সম্মেলনে র্যালি স্থগিতের বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “র্যালি স্থগিতের সিদ্ধান্তে আমরা পার্টির স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা স্বীকার করছি, তবে রাজনৈতিক পরিবেশের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন তারিখ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।” নাহিদের এই বক্তব্য পার্টির অভ্যন্তরে এবং বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনার সূচনা করেছে।
র্যালি স্থগিতের ফলে জামায়াতের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। র্যালি সাধারণত পার্টির সমর্থকদের মনোভাব জোরদার করার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। তাই নতুন তারিখ না জানিয়ে এই দিক থেকে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পার্টির স্থানীয় স্তরে র্যালি স্থগিতের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বহু কর্মী ও সমর্থকরা র্যালি পুনরায় নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু এলাকায় র্যালি স্থগিতের ফলে সমাবেশের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন, যা পার্টির সংগঠনগত কাঠামোর উপর সাময়িক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, র্যালি স্থগিতের ফলে জামায়াতের অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বিশেষ করে, অন্যান্য দলগুলোর র্যালি ও সমাবেশের সঙ্গে সময়ের সংঘর্ষ এড়াতে পার্টি নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াত‑ই‑ইসলাম ৩ জানুয়ারি নির্ধারিত র্যালি শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সময়ের টাকাপোড়া এড়াতে স্থগিত করেছে, নতুন তারিখ এখনও অজানা। পার্টি নেতৃত্বের বিবৃতি এবং এনসিপি আহ্বায়কের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, র্যালি পুনরায় নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি চলছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



