৭০ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোকে শনিবার ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরের কারাগার সেল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে এক ঘণ্টার চিকিৎসা করা হয়, যা তার দীর্ঘদিনের হিক্কি সমস্যার সমাধানের জন্য করা হয়।
চিকিৎসা দল জানায়, এই সেশনটি শল্যচিকিৎসা নয়, বরং ফ্রেনিক নার্ভের একটি অংশকে ব্লক করার প্রক্রিয়া, যা ডায়াফ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করে। চিকিৎসা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং ডান ফ্রেনিক নার্ভে প্রয়োগ করা হয়।
পূর্বে একই সপ্তাহে বলসোনারো ডাবল হার্নিয়া অপারেশন করিয়ে সফলভাবে সেরে ওঠেন, যা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি পেয়ে সম্ভব হয়। অপারেশনের পর তিনি এবং তার পরিবার হাসপাতালের বাইরে হাতে লেখা চিঠি দিয়ে তার পুত্র ফ্লাভিওকে ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার বিরোধে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সমর্থন জানান।
চিঠিটি তার পুত্রের হাতে তুলে দিয়ে হাসপাতালের বাহিরে পড়ে শোনানো হয়। এই সমর্থন তার রাজনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়, যদিও তিনি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাবাসে রয়েছেন।
বলসোনারোর স্ত্রী মিশেল সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, গত নয় মাস ধরে তিনি প্রতিদিন হিক্কি নিয়ে কষ্টে ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চিকিৎসা তার ডান ফ্রেনিক নার্ভকে “ব্লক” করেছে, যা হিক্কি কমাতে সহায়তা করবে।
ফ্রেনিক নার্ভ ডায়াফ্রামকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। নার্ভে জ্বালা হলে ডায়াফ্রামের অনৈচ্ছিক সংকোচন হয়, যা হিক্কি সৃষ্টি করে। ডান নার্ভের পাশাপাশি চিকিৎসা দল সোমবার বাম নার্ভের জন্যও একই প্রক্রিয়া করার পরিকল্পনা করেছে।
চিকিৎসা শেষে বলসোনারোকে হাসপাতালে থেকে ছাড়িয়ে ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরের কারাগার সেলে ফেরত পাঠানো হবে, যেখানে তিনি তার শাস্তি চালিয়ে যাবেন। তিনি সেপ্টেম্বর মাসে কুপ পরিকল্পনার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, এবং ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হারে কারাবাসে গিয়েছিলেন।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি বাড়িতে আটক অবস্থায় ছিলেন, তবে গত মাসে “উড়ে যাওয়ার ঝুঁকি” বিবেচনা করে পুলিশ ক্যাস্টডিতে স্থানান্তরিত হন। তার বর্তমান অবস্থান এবং স্বাস্থ্য অবস্থা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
লুলা সরকার এই সময়ে বলসোনারোর স্বাস্থ্যসেবা ও কারাবাসের শর্তাবলী ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে না এবং শাস্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, হিক্কি চিকিৎসা এবং সাম্প্রতিক শল্যচিকিৎসা বলসোনারোর রাজনৈতিক প্রভাবকে সাময়িকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। তবে তার শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং কারাবাসের শর্তাবলী তাকে সরাসরি প্রচারণা থেকে দূরে রাখবে।
ভবিষ্যতে তার দল এবং সমর্থকরা তার স্বাস্থ্যগত উন্নতি ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে তার দৃঢ়তা ও সংগ্রামের ছবি তুলে ধরতে চাইতে পারে। অন্যদিকে, লুলা সরকারের পক্ষ থেকে বলসোনারোর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রাখবে।
সংক্ষেপে, বলসোনারোর হিক্কি চিকিৎসা একটি ছোট মেডিকেল প্রক্রিয়া হলেও, তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।



