বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানসূচি প্রকাশ করেছে। এই পরিকল্পনা রাকিবুল ইসলাম রাকিব (সভাপতি) ও নাছির উদ্দীন নাছির (সাধারণ সম্পাদক) রবিবার গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানগুলো ১ জানুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলবে। মূল লক্ষ্য হল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শোকস্মরণ, সামাজিক সেবা এবং শিক্ষামূলক আলোচনা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম কার্যক্রমে সকাল ৯টায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যালয়সহ দেশের সব জেলা ও মহানগর ইউনিটের অফিসে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা সমবেতভাবে উত্তোলন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্যরা দেশপ্রেমিক স্লোগান ও সংগীতের মাধ্যমে ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করবেন।
সকাল ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর কবরস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। শোকস্মরণে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।
দুপুরের দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রক্তদান ক্যাম্প চালু করা হবে। ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবকরা রক্ত দান করে সমাজসেবার মাধ্যমে মানবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের জরুরি প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রক্তদান শেষে দুপুর ২টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি, ফার্মগেট) তে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দেশের কৃষি নীতি, যুবকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে বিশদ আলোচনা করবেন।
একই দিন সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রঙিন র্যালি চালু হবে। র্যালিতে দলীয় পতাকা, স্লোগান ও সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্স থাকবে, যা তরুণদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করবে। র্যালি শেষের দিকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সংলাপ করবেন।
র্যালির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে শোকস্মরণী কার্যক্রম চালু থাকবে। ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা শহীদদের কবরস্থলে গিয়ে ফুল অর্পণ করবেন এবং গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে সমর্থন জানাবেন। এই ভিজিটগুলোকে শোক ও সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি পারিবারিক সমস্যার সমাধানে সহায়তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা এই ধারাবাহিকতাকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ছাত্রদলের কার্যক্রমে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তবে ছাত্রদল পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সব কার্যক্রমই দেশের সেবা, শোকস্মরণ এবং যুবসমাজের গঠনমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই বিস্তৃত অনুষ্ঠানসূচি ছাত্রদলের জনমত গঠন, যুবকেন্দ্রিক সমর্থন বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরবর্তী সপ্তাহে দলীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আরও আলোচনা ও সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে একাধিক সামাজিক, শোকস্মরণী এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় দেশের যুব সমাজে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলাফল আগামী মাসে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে কীভাবে প্রকাশ পাবে তা সময়ই বলবে।



