জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে জানান, তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন না এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা‑৯ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। জারা সম্প্রতি পদত্যাগের পর দল পরিবর্তনের গুজবের মুখে এই স্পষ্ট বক্তব্য দেন।
পদত্যাগের পর শনিবার তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ঘোষণা করেন, তিনি স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান। এরপর তিনি ঢাকা‑৯ আসনের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করেন, যা নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৬৯,৩০০ হলে ৪,৬৯৩ স্বাক্ষর সংগ্রহের সমান। স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন চিহ্নিত স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। ঢাকা‑৯ আসনটি খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা থানা এবং মান্ডা এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৬৯,৩০০। তাসনিম জারাকে এই শর্ত পূরণ করতে ৪,৬৯৩ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী সোমবার নির্ধারিত।
ফেসবুকে তাসনিম জারা তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে লিখেছেন: “প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই জন্ম ও বেড়ে উঠেছি। আমার স্বপ্ন ছিল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংসদে গিয়ে এলাকার মানুষের সেবা করা। তবে বাস্তবিক কারণে আমি কোনো দল বা জোটের প্রার্থী নই। আমি আপনাদের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য লড়াই চালাব। এই নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা‑৯ থেকে অংশগ্রহণ করছি।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের স্থানীয় সংযোগ ও স্বতন্ত্রতার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের প্রার্থী হলে স্থানীয় অফিস, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী এবং সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা থাকে, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার একমাত্র নির্ভরতা স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন। তাসনিম জারা আশাবাদী যে, জনগণের আস্থা ও সমর্থনের মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সেবা করতে সক্ষম হবেন।
রবিবারের সাক্ষাৎকারে তাসনিম জারা স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখেন না। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বতন্ত্রতার প্রতি অটল বিশ্বাস কাজ করেছে। তাছাড়া, তিনি স্বীকার করেন যে দলীয় প্রার্থীর তুলনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রচার ও সংগঠনগত সুবিধা কম, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে স্থানীয় ভোটারদের সরাসরি সমর্থনই তার মূল শক্তি হবে।
তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে দৌড়ের ফলে ঢাকা‑৯ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। দলীয় প্রার্থীরা তার স্বতন্ত্র প্রচারণা থেকে ভোটের ভাগ ভাগ হতে পারে, যা আসনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সফলতা হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর উত্থানকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
পরবর্তী দিনগুলোতে তাসনিম জারা স্বাক্ষর সংগ্রহ চালিয়ে যাবেন এবং নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব প্রয়োজনীয় নথি জমা দেবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে তার ক্যাম্পেইন কিভাবে গড়ে উঠবে এবং ভোটারদের কাছ থেকে কতটুকু সমর্থন পাবেন, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি স্থানীয় সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন, যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে ওঠে।
তাসনিম জারার এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভূমিকা ও প্রভাব সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূচনা করবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সফলতা হলে ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্বতন্ত্রভাবে দৌড়ানোর সম্ভাবনা বাড়বে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও বহুমুখী করতে পারে। তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রচারণা ও তার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



